Showing posts with label লেখাপড়া ও শিক্ষা বিষয়ক. Show all posts
Showing posts with label লেখাপড়া ও শিক্ষা বিষয়ক. Show all posts

হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল

আমাদের অনেকের হাতের লেখা সুন্দর হয়ে থাকে।যাদের হাতের লেখা সুন্দর তারা অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই অনেকেই হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য নানান ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে চাই। এজন্য অনেকেই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে থাকেন হাতের লেখা সুন্দর করে হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল নিয়ে।আজকের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য বেশ কয়েকটি কৌশল বলে দিব যেগুলো আপনার মেনে হাতের লেখা সুন্দর করতে পারবেন।

ধীরে ধীরে লেখার অভ্যাস করুন

হাতের লেখা খারাপ হয় কেন 

আমরা অনেকেই হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য কত কিছুই না করে থাকি।কিন্তু আপনারা কি জানেন যে হাতের লেখা খারাপ হওয়ার জন্য আমাদের নিজেদের কয়েকটি বদঅভ্যাসই দায়ী। এই অভ্যাস গুলোর কারণে আমাদের হাতের লেখা অনেকটা খারাপ হয়ে থাকে। তাহলে চলুন প্রথমে জেনে নেওয়া যাক হাতের লেখা খারাপ হওয়ার জন্য দায়ী কিছু অভ্যাস সম্পর্কে:-

অতি দ্রুত লেখার চেষ্টা করা 

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দ্রুতগতিতে লেখার চেষ্টা করে থাকেন। এতে করে তাদের লেখা কখনোই আকর্ষণীয় হয় না এবং অনেক ধরনের বানান ভুল হয়ে থাকে।যার কারণে লেখাটি পড়তে গিয়েও অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। তাই হাতের লেখা যদি সুন্দর করতে হয় তাহলে অতি দ্রুত লেখার চেষ্টা বাদ দিতে হবে। 

লেখা অতি বড় করা যাবে না 

আমরা অনেকেই লেখার সময় অক্ষর অনেক বড় বড় করে লিখা থাকে যার কারণে আমাদের লেখার সৌন্দর্য কমে যায়। তাই যখন লিখতে থাকবেন তখন অক্ষর অতিরিক্ত বড় করা যাবে না। এতে করে লেখার সৌন্দর্যতা নষ্ট হতে পারে। 

কলম শক্ত করে ধরে লেখা

অনেকে লেখার সময় কলম অনেক শক্ত করে ধরে থাকেন যার ক্ষেত্রে লেখা কিছুটা আকা বাকা হয়ে যায়। লেখার সৌন্দর্য তা অনেক নষ্ট হয়ে যায়। সুন্দর ভাবে লিখতে গেলে ভালোভাবে কলম ধরাটাও জরুরী। তাই কখনো কলম অতিরিক্ত শক্ত করে হাতে ধরবেন না এতে করে লেখার মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মনোযোগ না দিয়ে লেখা 

যেকোনো কাজ মনোযোগ দিয়ে করলে সেই কাজটি ভালো হয়ে থাকে। লেখার ক্ষেত্রেও এই নিয়মটা কার্যকারী। আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে সুন্দর ভাবে লেখার চেষ্টা না করে থাকেন তাহলে কোনভাবেই আপনার লেখা সুন্দর হবে না। তাই অবশ্যই যেটুকু লিখবেন মনোযোগ দিয়ে লেখার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনার লেখা অন্যদের কাছে আকর্ষণীয় লাগবে। 

যাদের ভেতরে এই অভ্যাসগুলো রয়েছে তাদের হাতের লেখা কোন সময়ই সুন্দর হবে না। তাই অবশ্যই হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য এই অভ্যাসগুলোকে বাদ দিতে হবে। তারপরে আপনারা চাইলে হাতের লেখা সুন্দর করার সেরা কয়েকটি ইউনিট টিপস অনুসরন করতে পারেন।নিচে হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল দেওয়া হলো।

হাতের লেখা সুন্দর করে লেখার কৌশল

যাদের হাতের লেখা অনেক ভালো অনেক ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তাই আমরা অনেকেই হাতের লেখা সুন্দর করার চেষ্টা করি।নিচে হাতের লেখা সুন্দর করার সেরা কয়েকটি ইউনিক টিপস দেওয়া হলো।উক্ত পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করার ফলে আপনার হাতের লেখা অনেক সুন্দর হয়েছে। 

লেখার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান রাখুন 

হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় উপকরণের প্রয়োজন হবে। তাই আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন কাগজ এবং কলম ব্যবহার করবেন লেখার জন্য। এতে করে আপনার লেখার প্রতি মনোযোগ বাড়বে এবং লেখাটিকে সুন্দর করে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব হবে।

নিয়মিত লেখালেখি করার অভ্যাস করতে হবে

আপনার হাতের লেখা সুন্দর নয় তাই যে কখনো সুন্দর হবে না এটা ঠিক নয়। আপনি যদি ক্রমাগত চেষ্টা করতে থাকেন তাহলে একসময় অবশ্যই আপনার হাতের লেখা সুন্দর হবে। এজন্য আপনি নিয়মিত আপনার পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। এতে করে নিজের হাতের লেখা সুন্দর হওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

লেখার সময় হাত এবং করিল নমনীয় অবস্থায় রাখা

আমরা অনেকেই আছি যারা লেখার সময় হাত ও কনুইও অনেক শক্ত করে রাখি। এর ফলে হাতের লেখা অনেক খারাপ হয়ে থাকে। তাই লেখার সময় অবশ্যই হাত এবং করণীয় নরম করে নিবেন এতে করে আপনার লেখা আকর্ষণীয় হবে।

বইয়ের লেখা অনুসরণ করতে পারেন 

আমরা বইতে লেখা গুলো দেখে থাকি সেগুলো অনেক সুন্দর হয়ে থাকে।তাই আমরা যখন কোন খাতা নিয়ে লিখতে বসবো তখন অবশ্যই বইয়ের লেখা দেখে লিখবো।এতে করে আপনি চাইবেন বইয়ের লেখার থেকে আরো ভালোভাবে লিখতে।যার কারনে আপনার লেখা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে ।

সঠিকভাবে কলম ধরা শিখতে হবে 

সঠিকভাবে কলম ধরতে না জানলে কোন সময় হাতের লেখা সুন্দর হবে না। এতে করে লেখা আঁকা বাঁকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি তৈরি হয়। তাই অবশ্যই সঠিক ভাবে কলম ধরা আগে শিখতে হবে এবং অন্যরা যাদের হাতের লেখা অনেক ভালো তাদেরকে অনুসরণ করতে পারেন।

ধীরে ধীরে লেখার অভ্যাস করুন 

বেশিরভাগ ছাত্ররাই খুবই দ্রুত লিখতে পছন্দ করে থাকেন। যারা খুবই দ্রুত লিখে থাকেন তাদের লেখা কোন সময়ই বেশি সুন্দর হবে না। তাই আপনার লেখাটিকে আকর্ষণীয় করে অন্যদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য অবশ্যই ধীরে ধীরে লেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই লেখার সময় অতিরিক্ত তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এতে করে হাতের লেখা সুন্দর হয়ে উঠবে। 

বসে লেখার অভ্যাস করতে হবে 

বসে লিখলে আমাদের হাতের লেখা অনেক আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। যারা দাঁড়িয়ে বা তাড়াহুড়া করে লিখে থাকেন তাদের হাতের লেখা কোন সময়ই ভাল হয় না। তাই অবশ্যই লেখা শুরু করলে বসে লিখতে হবে এবং ধীরেসুস্থে লেখাটির যেন আকর্ষণীয় হয় সেই দিকে নজর দিতে হবে।

অন্যদের থেকে ভালো লেখার চেষ্টা করতে হবে 

আপনার আশেপাশের বন্ধু-বান্ধব এর লেখার থেকে আপনার লেখা ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। হয়তো আপনি প্রথমদিকে সফলতা পাবেন না কিন্তু ক্রমাগত চেষ্টা করে যাওয়ার ফলে আপনার হাতের লেখা সুন্দর করতে পারবেন। তাই যদি হাতের লেখা সুন্দর করতে চান তাহলে এই মানসিকতা টা আপনাদের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। 

আমাদের শেষ কথা 

যারা নিজের হাতের লেখা কে আরো আকর্ষণীয় এবং সুন্দর করে তুলতে চান তারা চাইলে উপরের দেওয়া এই সকল ইউনিক টিপস গুলো ফলো করতে পারেন। এই টিপস গুলো ফলো করার মাধ্যমে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনি নিজের হাতের লেখা কে সুন্দর করে ফেলতে পারবেন।আর হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল এই সম্পর্কে যদি কোন ধরনের প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন কিভাবে লিখবো

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ১০০+ কিবোর্ড শর্টকাট টেকনিক!

আপনার বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন পত্র অনলাইনে খুজে থাকেন তাহলে আমাদের আজকের এই আর্টিকেল আপিনার জন্য। বড় বোনেত বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য কিভাবে আবেদন লিখবো এই নিয়ে আমাদের আজকের পোস্ট। আমাদের বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটির জন্য আবেদন করতে হয়। কিন্তু ছুটির জন্য আবেদন পত্র কিভাবে লিখতে হয় সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না।

বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন কিভাবে লিখবো

আমাদের নিজের প্রতিষ্ঠান বা স্কুল-কলেজ থেকে বিভিন্ন কারণে ছুটির প্রয়োজন হয়ে থাকে। ছুটি নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের নিকট ছুটির জন্য আবেদন করতে হয়। আমরা আজকে দেখব কিভাবে বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন করতে হয়। কিভাবে আবেদন পত্র লিখতে হয় বা আবেদন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন আমরা লিখে দিব আপনারা সেখান থেকে নিজেদের মতো করে লিখতে পারবেন। 

আমরা অনেকেই আছি যারা আবেদন কিভাবে লিখতে হয় সেটা সম্পর্কে ভালোভাবে না জানার কারণে কোন কিছুর আবেদন করতে পারি না। আপনার যদি বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে আপনার ছুটির প্রয়োজন হয় তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠান নিকট আপনাকে একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র আপনি যত গুছিয়ে লিখতে পারবেন আপনার ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন কিভাবে লিখব সেই সম্পর্কে। 

আবেদনপত্র বা দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হলে দরখাস্ত লেখার নিয়ম, নমুনা ও উদাহরন ২০২৪ এই পোস্টটি দেখতে পারেন। এ পোস্টটি দেখলে আপনি খুব সহজে দরখাস্ত বা আবেদন পত্র লিখে ফেলতে পারবেন। আমরা এখানে আবেদন পত্র বা দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে সুন্দরভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। 

বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন

বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন করতে হয় প্রতিষ্ঠানের নিকট। আমরা এখন দেখব বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন কিভাবে লিখতে হয়। এই আবেদনপত্রে আপনারা আপনাদের মত করে নাম ঠিকানা গুলো পরিবর্তন করে নিবেন। আবেদন পত্রটি স্কুলে বা কলেজে জমা দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই আপনার অভিভাবকের স্বাক্ষর নিবেন। তাহলে চলুন দেখিনি বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে কিভাবে আপনারা ছুটির জন্য আবেদন পত্র লিখবেন। আবেদন পত্রটি অবশ্যই এক পৃষ্ঠাই লিখে শেষ করবেন। 

০৭ নভেম্বর ২০২৪

বরাবর 

প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা 

সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম 

বিষয়ঃ বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন

জনাব/জনাবা,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর একজন নিয়মিত ছাত্র/ছাত্রী। আগামী ১০ই নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আমার একমাত্র বড় বোনের বিবাহ সম্পূর্ণ হবে। বড় বোনের বিবাহ উপলক্ষে আমাকে বিভিন্ন কাজে উপস্থিত থাকতে হবে। ফলে আগামী ৮ নভেম্বর ২০২৪ থেকে ১২ই নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারবো না। 

অতএব জনাবে নিকট আকুল আবেদন এই যে, উক্ত ০৫ দিন আমার ছুটি মঞ্জুর করে আমাকে বাধিত করবেন। 

নিবেদক

আপনার একান্ত অনুগত ছাত্র/ছাত্রী

হাসনাত রায়হান

শ্রেণিঃ ১০ম, শাখাঃ ক, রোলঃ ২০

তোমার বড় বোনের বিয়ে বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন

পরীক্ষা দেওয়ার সময় আমাদের প্রশ্নের মধ্যে আসতে পারে তোমার বড় বোনের বিয়ে, বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন পত্র লিখ। আমরা অনেক সময় এই দরখাস্ত বা আবেদন পত্রটি কোথাও খুঁজে পায় না। স্কুল বা কলেজের প্রশ্নে এ ধরনের প্রশ্ন আসলে আপনারা কিভাবে দরখাস্তটি লিখবেন আমরা এখন দেখে নিব। আমরা ইতিমধ্যে আপনাদের বলেছি আবেদনপত্র বা দরখাস্ত এক পৃষ্ঠার মধ্যে লিখতে হয়। তোমার বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন এই ধরনের কোন প্রশ্ন আসলে আপনারা খুব সহজে তা এখান থেকে লিখতে পারবেন। 

০৭ নভেম্বর ২০২৪

বরাবর 

প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা 

সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম

জনাব/জনাবা,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনী, শাখা (ক) এর একজন নিয়মিত ছাত্র/ছাত্রী। আগামী ১২ই নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আমার একমাত্র বড় বোনের বিবাহ সম্পূর্ণ হবে। আমার একমাত্র বড় বোনের বিয়ে আমাদের বাড়িতেই সম্পূর্ণ হবে। বড় বোনের বিবাহ উপলক্ষে আমাকে বিভিন্ন কাজে উপস্থিত থাকতে হবে। যার ফলে আগামী ৯ নভেম্বর থেকে ১৩ ই নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারবো না। 

অতএব জানাবেন নিকটা করা আবেদন এই যে, আমার বোনের বিয়ে উপলক্ষে উক্ত ৫ দিন ছুটি মঞ্জুর করে আমাকে বাধিত করবেন। 

নিবেদক

আপনার একান্ত অনুগত ছাত্র/ছাত্রী

হাসনাত রায়হান

শ্রেণিঃ ১০ম, শাখাঃ খ, রোলঃ ২৪

রায়হান আইটির শেষ কথা 

প্রিয় রায়হান আইটির পাঠকবৃন্দ আশা করি বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন কিভাবে লিখবো এই বিষয়ে লেখা পোস্ট আপনাদের কাজে আসবে। অফিস কিংবা স্কুল ও কলেজ থেকে আমাদের বড় বোনের বিয়ের কারণে ছুটির প্রয়োজন হয়ে থাকে। বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন কিভাবে লিখতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। আবার বিভিন্ন পরিক্ষায় আসতে পারে তোমার বড় বোনের বিয়ে, বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটির জন্য আবেদন পত্র লিখ। আশা করি আপনারা এইখান থেকে প্রশ্নের উত্তর সুন্দর করে লিখতে পারবেন। আবেদনপত্র বা দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হলে দরখাস্ত লেখার নিয়ম, নমুনা ও উদাহরন ২০২৪ এই পোস্টটি দেখতে পারেন।

পর্যায় সারণি কিভাবে মনে রাখবো, পর্যায় সারণি মনে রাখার কৌশল pdf

সহজ উপায়ে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পর্যায় সারণি মনে রাখা অনেক জরুরি একটা কাজ। ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন উপায় খুজতে থাকে কিভাবে পর্যায় সারণি মুখস্থ করতে হয়। আপনিও যদি একজন ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই পর্যায় সারণি মুখস্থ করার চেষ্টা করতেছেন। কিন্তু কোন ভাবেই পর্যায় সারণি মুখস্থ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো পর্যায় সারণি মনে রাখার সহজ কৌশল। আমাদের শেয়ার করা কৌশল ব্যবহার করে আপনি খুব সহজে পর্যায় সারণি মুখস্থ করতে পারবেন। মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে পড়লে পর্যায় সারণি খুব সহজে মুখস্থ হয়ে যাবে।

পর্যায় সারণি কিভাবে মনে রাখবো, পর্যায় সারণি মনে রাখার কৌশল pdf

বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন সাবজেক্ট বুঝতে হলে আপনাকে অবশ্যই পর্যায় সারণি মুখস্থ করতে হবে। সকল প্রকার মৌলের নাম মুখস্থ করা ও মৌলের বিভিন্ন তথ্য যেমন, মৌলের ভর, মৌলের ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা, মৌলের জারণ সংখ্যা ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের জানতে হয়। এই সব ধরনের তথ্য আমরা শুধু পর্যায় সারণির মাধ্যমে শিখতে পারবো। 

পর্যায় সারণিতে ১১৮ টি মৌল রয়েছে। যা মুখস্থ করা আমাদের জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। পর্যায় সারণিতে সব মৌল মুখস্থ করা সম্ভব হয় না। এই মৌলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ, ব্লক, প্রতীক, পারমাণবিক সংখ্যা যা আমাদের মূখস্থ করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। পর্যায় সারণি ভালোভাবে মুখস্থ করতে পারলে আমাদের সব ধরনের মৌলের গ্রুপ, ব্লক, প্রতীক, পারমাণবিক সংখ্যা মুখস্থ হয়ে যাবে। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে পর্যায় সারণি কিভাবে মুখস্থ করতে হয় ও পর্যায় সারণি মুখস্থ করার সহজ পদ্ধতি আলোচনা করবো। আমাদের আর্রটিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়লে আপনি খুব সহজে পর্যায় সারণি মুখস্থ করতে পারবেন।

খুব সহজে আপনি পর্যায় সারণি মুখস্থ করতে পারবেন। আমাদের দেখিয়ে দেওয়া নিয়ম গুলো মেনে পড়লে আপনার খুব সহজে পর্যায় সারণি মুখস্থ হয়ে যাবে। তাহলে শুরু করা যাক পর্যায় সারণি কিভাবে মনে রাখবো ও পর্যায় সারণি মনে রাখার কৌশল সম্পর্কে। 

পর্যায় সারণি কাকে বলে?

এখন আমরা আলোচনা করব পর্যায় সারণি কাকে বলে। পর্যায় সারণী মুখস্ত করা আমাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কিভাবে পর্যায় সারণি মুখস্ত করতে হয় সে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। তবে আমরা এখন আলোচনা করব পর্যায় সারণি কাকে বলে। আমাদের অনেকেরই জানতে ইচ্ছে করে পর্যায় সারণি আসলে জিনিসটা কি এবং পর্যায় সারণী কাকে বলে। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক পর্যায় সারণি কাকে বলে। 

বিভিন্ন মৌলের ভৌত এবং রাসায়নিক ধর্মের মধ্যে মিল ও অমিল এবং এ সকল ধর্মের ক্রম পরিবর্তন দেখানোর জন্যমৌলগুলোকে কতগুলো আনুভূমিক শাড়ি উলম্ব কলামে সাজিয়ে যে তালিকা বা সারণী প্রস্তুত করা হয়েছে তাকে পর্যায় সারণী বলা হয়।

অন্যভাবে বললে পর্যায় সারণি হচ্ছে এমন একটি সারণি যেখানে মৌলগুলোকে ক্রম অনুসারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে পর্যায় সারণিটি দেখতে পাই সেটি হচ্ছে পর্যায় সারণির সবচেয়ে আধুনিক রূপ। তাই একে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।

পর্যায় সারণি ছবি

পর্যায় সারণি কিভাবে মনে রাখবো, পর্যায় সারণি মনে রাখার কৌশল pdf

পর্যায় সারণি মনে রাখার কৌশল

আপনারা পর্যায় সারণি কিভাবে মুখস্থ করতে হয়ে সে বিষয়ে না জানার কারণে এটি মুখস্থ করা সম্ভব হয় না। আমরা শুধু একটার পর একটা পড়ে যায় কিন্তু সেগুলো কোনভাবে মুখস্থ রাখা সম্ভব হয় না। পর্যায় সারণি মুখস্থ করার নিয়ম হচ্ছে এটি কবিতার মত করে অর্থ্যাৎ ছন্দ মিলিয়ে পড়া। ছন্দ আকারে পর্যায় সারণির গ্রুপ ও মৌল গুলো পড়লে আমাদের খুব সহজে সেটি মুখস্থ হয়ে যায়। আমরা পর্যায় সারণি মুখস্থ করার জন্য কিছু ছন্দ নিচে উল্লেখ করে দিবো, সেগুলো ভালোভাবে পড়লে আপনি খুব সহজে পর্যায় সারণি গুলো মুখস্থ করতে পারবেন।

পর্যায় সারণিতে মোট ১৮ টি গ্রুপ ও ৭ টি সারি বা পর্যায় রয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপের মধ্যে মৌল গুলো আলাদা আলাদা করে দেওয়া থাকে এবং এদের গ্রুপ গুলো ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন প্রথম গ্রুপে রয়েছে ক্ষার ধর্মী ও দ্বিতীয় গ্রুপে এর মৌলগুলো আবার মৃৎক্ষার ধাতু। গ্রুপ করে আমরা যদি পর্যায় সারণি গুলো ভালোভাবে ছন্দ মিলিয়ে পড়তে পারি তাহল পর্যায় সারণি খুব সহজে আমাদের মুখস্থ হয়ে যাবে। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি ছন্দ মিলিয়ে পর্যায় সারণি মুখস্থ করবেন।

পর্যায় সারণির গ্রুপের মৌলগুলো মনে রাখার কৌশল

পর্যায় সারণির গ্রুপের মৌলগুলো মনে রাখার কৌশল সম্পর্কে আমরা আলোচনা করবো। আপনাদের সুবিধার্থে আমরা প্রতিটা গ্রুপের জন্য আলাদা আলাদা করে ছন্দ দিবো যা আপনি ভালোভাবে পড়তে পারলে মৌলের নাম গুলো খুব সহজে মুখস্থ করতে পারবেন। Group 1A থেকে Group 8A পর্যন্ত দেওয়া থাকবে যা আপনি ছন্দ মিলিয়ে পড়তে পারবেন।

পর্যায় সারণি গ্রুপ 1A

পর্যায় সারণির প্রথম গ্রুপ 1A তে রয়েছে মোট ৭ টি মৌল। এই মৌল গুলো হলো ক্ষার ধর্মী অর্থাৎ এরা Alkail Metal। এই গ্রুপের মৌল গুলো পানির সাথে বিক্রিয়া হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার দ্রবণ তৈরি করে থাকে। এইবার দেখে নিন এই গ্রুপের মৌল গুলো কিভাবে মুখস্থ করতে হয় ছন্দ আকারে।

প্রতীক: H, Li, Na, K, Rb, Cs, Fr

পর্যায় সারণী মনে রাখার ছন্দ:

  • হে লি না কে রুবি সাজাবে ফ্রান্সে
  • হা লায় না কি রাবিতে কাশ ফেলেছে
  • হা লিনা কে রুবিনা ছেঁচে ফেলেছে

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • হে => H => Hydrogen => হাইড্রোজেন
  • লি => Li => Lithum => লিথিয়াম
  • না => Na => Sodium => সোডিয়াম
  • কে => K => Potassium => পটাশিয়াম
  • রুবি => Rb => Rubidium => রুবিডিয়াম
  • সাজাবে => Sc => Saesium => সিজিয়াম
  • ফ্রান্সে => Fr => Fransium => ফ্রান্সিয়াম

পর্যায় সারণি গ্রুপ 2A

গ্রুপ 2A তে রয়েছে মোট ৬ টি মৌল। এই মৌল গুলো হচ্ছে মৃৎ ক্ষার ধাতু। মৃৎ ধাতুগুলো অনেকটাই ক্ষার ধাতুর মতো কাজ করে। তাহলে চলুন পর্যায় সারণি গ্রুপ 2A কিভাবে ছন্দ মিলিয়ে পড়বেন দেখে নিন।

প্রতীক: Be, Mg, Ca, Sr, Ba, Ra

পর্যায় সারণী মনে রাখার ছন্দ:

  • বিধবা মায়ের ক্যাডার সন্তান বাদশাহ রহিম
  • বিরিয়ানি মোগলাই কাবাব সরিয়ে বাটিতে রাখ
  • বিধবা মহিলা কা সার বাসনে রাধে

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • বিধবা => Be => Beryllium => বেরিলিয়াম
  • মায়ের => Mg => Magnesium => ম্যাগনেসিয়াম
  • ক্যাডার => Ca => Calcium => ক্যালসিয়াম
  • সন্তান => Sr => Stronsium => স্ট্রানসিয়াম
  • বাদশাহ => Ba => Barium => বেরিয়াম
  • রহিম => Ra => Radium => রেডিয়াম

পর্যায় সারণী গ্রুপ 3A

পর্যায় সারণী গ্রুপ 3A তে হয়েছে মোট ৫ টি মৌল। দেখে নিন কিভাবে এই গ্রুপের মৌলগুলো মুখস্থ রাখতে হয়ে ছন্দের মাধ্যমে। 

প্রতীক: B, Al, Ga, In, Ti

পর্যায় সারণী মনে রাখার ছন্দ:

  • বরুন অল্পতেই গেল ইন্ডিয়া তে
  • বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গেল ইন্ডিয়া ট্যুরে
  • বলে এলাম জাই য়েন তাইলে

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • বরুন => B => Born => বোরন
  • অল্পতেই => Al => Aluminium => অ্যালুমিনিয়াম
  • গেল => Ga => Gallium => গ্যালিয়াম
  •  ইন্ডিয়া => In => Indium => ইন্ডিয়াম
  • তে => Tl => Thallium => থেলিয়াম

পর্যায় সারণি গ্রুপ 4A

কারণে গ্রুপ 4A তে রয়েছে মোট ০৫ টি মৌল। এই মৌলগুলোর নাম ছন্দের মাধ্যমে মনে রাখার কৌশল চলুন জেনে নেই।

প্রতীক: C, Si, Ge, Sn, Pb

পর্যায় সারণী মনে রাখার ছন্দ:

  • কলিকাতা সিটিতে গেলে সোনা পাবে
  • কাদঁলে শার্ট গেন্জি স্যান্ডেল পাবে
  • ছি! সিলেট গেলেন? সমস্যায় পড়বেন

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • কলিকাতা => C => Carbon => কার্বন
  • সিটিতে => Si => Silicon => সিলিকন
  • গেলে => Ge => Germanium => জামিনিয়াম
  • সোনা => Sn => Tin => টিন
  • পাবে => Pb => Lead => লেড বা সিসা

পর্যায় সারণি গ্রুপ 5A

গ্রুপ 5A তে মোট মৌল রয়েছে ৫ টি। এই মৌলগুলোর নাম ছন্দের মাধ্যমে মনে রাখার কৌশল চলুন জেনে নেই। ছন্দের মাধ্যমে মিলিয়ে পড়তে পারলে আপনি খুব সহজে মুখস্থ করতে পারবেন। 

প্রতীক: N, P, A,s Sb, Bi

পর্যায় সারণী মনে রাখার ছন্দ:

  • নাই প্রিয়া আজ সবই বিরহের
  • না ফিজ আছে আন্টির বাসায়
  • নাই পারুল আছে সাবিনা বিয়ান

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • নাই => N => Nitrogen => নাইট্রোজেন
  • প্রিয়া => P => Phosphorus => ফসফরাস
  • আজ => As => A arsenic => আর্সেনিক
  • সবই => Sb => Antimony => এন্টিমনি
  • বিয়ান => Bi => Bismath, => বিসমাথ

পর্যায় সারণি গ্রুপ 6A

গ্রুপ 6A তে মোট মৌল রয়েছে ৫ টি। এই মৌলগুলোর নাম ছন্দের মাধ্যমে মনে রাখার কৌশল চলুন জেনে নেই। আপনাকে অবশ্যই আমাদের দেওয়া ছন্দগুলো মুখস্ত করতে হবে। মুখস্ত করার পর ছন্দ থেকে মিলিয়ে মৌল গুলোর নাম মুখস্ত করে ফেলবেন। 

প্রতীক: O, S, Se, Te, Po

পর্যায় সারণী মনে রাখার ছন্দ:

  • অফিস শেষে সেলিনা টেলিফোন পেল
  • ও এস এস-ই তে পড়ে
  • ওর ছোট ছেলেটা টেবিলে পড়ে

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • অফিস => O => Oxygen => অক্সিজেন
  • শেষে => S => Sulfur => সালফার
  • সেলিনা => Se => Selenium => সেলেনিয়াম
  • টেলিফোন => Te => Tellurium => টেলুরিয়াম
  • পেল => Po => Polonium => পোলেনিয়াম

পর্যায় সারণি গ্রুপ 7A

পর্যায় সারণী গ্রুপ 7A তে মোট মৌলের সংখ্যা ০৫ টি। এই গ্রুপের ৫ টি মৌলকে একত্রে হ্যালোজেন (halogen) বলা হয়ে থাকে। হ্যালোজেন শব্দের অর্থ হল লবণ গঠনকারী (salt maker)। এই মৌলগুলোর নাম ছন্দের মাধ্যমে মনে রাখার কৌশল চলুন জেনে নেই। পর্যায় সারণির এ গ্রুপটি অনেক ইম্পরট্যান্ট তাই এটি ভালো করে পড়ে নেবেন। 

প্রতীক: F, Cl, Br, I, At

পর্যায় সারণী মনে রাখার ছন্দ:

  • ফখরুলের ক্লোনটি বড়ই ইডি য়েট
  • ফেল করলেও আইজ বাড়িতে আসতাম
  • ফ্লোর কলনীর বাসায় আন্টি আছে

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • ফখরুলের => F => Florin => ফ্লোরিন
  • ক্লোনটি => Cl => Chlorine => ক্লোরিন
  • বড়ই => Br => Bromine => ব্রোমিন
  • ইডি => I => Iodine => আয়োডিন
  • য়েট => At => Astatine => অ্যাস্টেটাইন

পর্যায় সারণি গ্রুপ 8A

VIIIA বা ‘O’ গ্রুপকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা ইনার্ট গ্যাস বা noble gas, Rare gas, অভিজাত গ্যাস, বিরল গ্যাস। পর্যায় সারণির আটটি গ্রুপের মধ্যে এই সারণিটির সব শেষ। সব সারণির ছন্দ গুলো মিলিয়ে পড়ার পর ভালোভাবে মুখস্ত করে নেবেন। মুখস্ত করার পর মৌলগুলো মিলিয়ে পড়বেন। তাহলে আপনি খুব দ্রুত এই পর্যায় সারণির প্রত্যেকটি গ্রুপের মৌলের নাম মুখস্থ করতে পারবেন। 

প্রতীক: H, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn

পর্যায় সারণী মনে রাখার ছন্দ:

  • হে না আর করিম যাবে রমনায়
  • হিলি নিলি আর কৃপা যাইবে রংপুর

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • হে => He => Helium => হিলিয়াম
  • না => Ne => Neon => নিয়ন
  • আর => Ar => Argon => আর্গন
  • করিম => Kr => Krypton => ক্রিপ্টন
  • যাবে => Xe => Xenon => জেনন
  • রমনায় => Rn => Radon => রাডন

অবস্থান্তর মৌলগুলো মনে রাখার কৌশল

পর্যায় সারণির মধ্যে গ্রুপ ৩ থেকে ১১ গ্রুপে অবস্থিত মৌলসমূহকে অবস্থান্তর মৌল => Transition Meta) হিসেবে পরিচিত। এই অবস্থান্তর মৌলগুলো রয়েছে নিজস্ব বর্ণ। এ মৌলগুলো ধাতব পদার্থ হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমরা পর্যায় সারণী গুলো যেভাবে মনে রাখার জন্য ছন্দ ব্যবহার করেছে ঠিক তেমনি এ অবস্থান্তর মৌলগুলো ছন্দ মিলিয়ে মুখস্ত করার চেষ্টা করবেন। 

অবস্থান্তর মৌল গ্রুপ 1B

প্রতীক: Cu, Ag, Au

মনে রাখার ছন্দ:

  • কোথায় ছিলো সোনা

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • কোথায় => Cu => Copper => কপার
  • ছিলো => Ag => Silver, => সিলভার
  • সোনা => Au => Gold => গোল্ড

অবস্থান্তর মৌল গ্রুপ 2B

প্রতীক: Zn, Cd, Hg, Cn

মনে রাখার ছন্দ:

  • জিৎও ক্যাডরিনা পেলো কলা

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • জিৎ => Zn => Zinc => জিংক
  • ক্যাডরিনা => Cd => Cadmium => ক্যাডমিয়াম
  • পেলো => Hg => Mercury => পারদ বা মার্কারি
  • কলা => Cn- Copernicium => কপারনিসিয়াম

অবস্থান্তর মৌল গ্রুপ 8B

প্রতীক: Fe, Co, Ni, Ru, Rh, Pd, Os, Ir, Pt, Hs, Mt, Ds

মনে রাখার ছন্দ: এই গ্রুপের মৌলগুলোর নাম মনে রাখার জন্য কোন ছন্দ নেই।

ছন্দ থেকে যেভাবে পর্যায় সারণি পড়বেন:

  • Fe => Iron => লোহা বা আয়রন
  • Co => Cobalt => কোবাল্ট
  • Ni => Nickel => নিকেল
  • Ru => Ruthenium => রুথেনিয়াম
  • Rh => Rhodium => রোডিয়াম
  • Pd => Palladium => প্যালাডিয়াম
  • Os => Osmium -অসমিয়াম
  • Ir => Eridium => ইরিডিয়াম
  • Pt => Platinum => প্লাটিনাম
  • Hs => Hassium => হ্যাসিয়াম
  • Mt => Metnerium => মিটনেরিয়াম
  • Ds => Damstadium => ডামস্টেডিয়াম

পর্যায় সারণির পর্যায়ের মৌলগুলো মনে রাখার কৌশল

আমরা এখন আলোচনা করব পর্যায় সারণির পর্যায়ের মূল গুলো কিভাবে মনে রাখবে। পর্যায় সারণির পর্যায়ের মৌলগুলো মুখস্ত করা আমাদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই পর্যায় সারণিতে রয়েছে মোট ০৭ টি সারণি। আমরা এতক্ষন যেভাবে ছন্দ মিলিয়ে অন্যান্য মৌলগুলো মুখস্থ করেছে ঠিক তেমনি পর্যায় সারণির পর্যায়ের ও মৌলগুলো আমরা ছন্দ মিলিয়ে পড়ার চেষ্টা করব। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক পর্যায় সারণির পর্যায়ের মূল্য গুলো মনে রাখার কৌশল সমূহ। 

পর্যায় সারণির পর্যায় ১

মৌলগুলোর প্রতীক: H, He

মনে রাখার কৌশল:

  • হ হি

উদাহরণ সহ মৌলের নাম:

  • হ => H => Hydrogen => হাইড্রোজেন
  • হি => He => Helium => হিলিয়াম

পর্যায় সারণির পর্যায় ২

মৌলগুলোর প্রতীক: Li, Be, B, C, N, O, F, Ne

মনে রাখার কৌশল:

  • লি বেন? বেনী চুড়ি? নিপস্টিক ও ফা নি

উদাহরণ সহ মৌলের নাম:

  • লি => Li => Lithium => লিথিয়াম
  • বেন => Be => Beryllium => বেরেলিয়াম
  • বেনী => B => Boron => বোরন
  • চুড়ি C => Carbon => কার্বন
  • নিপস্টিক => N => Nitrogen => নাইট্রোজেন
  • ও => O => Oxygen => অকিজেন
  • ফা => F => Fluorine => ফ্লোরিন
  • নি => Ne => Neon => নিয়ন

পর্যায় সারণির পর্যায় ৩

মৌলগুলোর প্রতীক: Na, Mg, Al, Si, P, S, Cl, Ar

মনে রাখার কৌশল:

  • না! মগা আলু ছিলতে পারে সব কিলি য়ার

উদাহরণ সহ মৌলের নাম:

  • না => Na => Sodium
  • মগা => Mg => Mangnesium
  • আলু => Al => Aluminium => অ্যালুমিনিয়াম
  • ছিলতে => Si => Silicon => সিলিকন
  • পারে => P => Phosphorus => ফসফরাস
  • সব => S => Sulphur => সালফার
  • কিলি => Cl => Chlorine => ক্লোরিন
  • য়ার => Ar => Argon => আর্গন

পর্যায় সারণির পর্যায় ৪

মৌলগুলোর প্রতীক: Sc, Ti, V, Cr, Mn, Fe, Co, Ni, Cu, Zn

মনে রাখার কৌশল:

  • শাহরুখ টাইটানিকে ভেসে কালো মনিষকে ফেলে কোয়েলকে নিয়ে কুয়াকাটা যাবে
  • স্কুল টি ভাঙায় চেয়ার ম্যান ফের কমিশন নিয়ে কাজে যাচ্ছেন

উদাহরণ সহ মৌলের নাম:

  • শাহরুখ => Sc => Scandium => স্ক্যানডিয়াম
  • টাইটানিকে Ti => Titanium => টিটেনিয়াম
  • ভেসে V => Vanadium => ভ্যানাডিয়াম
  • কালো => Cr => Chromium => ক্রোমিয়াম
  • মনিষকে => Mn => Manganese => ম্যাঙ্গানিজ
  • ফেলে => Fe => Iron => লোহা বা আয়রন
  • কোয়েলকে => Co => Cobalt => কোবাল্ট
  • নিয়ে => Ni => Nickel => নিকেল
  • কুয়াকাটা => Cu => Copper => কপার
  • যাবে => Zn => Zinc => জিংক

পর্যায় সারণির পর্যায় ৫

প্রতীক: Y, Zr, Nb, Mo, Tc, Ru, Rh, Pd, Ag, Cd

মনে রাখার কৌশল:

  • ইতি ও জেরিন নাইরোবিতে মোবাইল সহ রুথের রোড টি দিয়ে পালাবার আগে কাঁদছিল
  • ইওর জ্বর নামবে মন টাকে আরো রেস্ট-হতে দাও পারলে আগে কাঁদো

উদাহরণ সহ মৌলের নাম:

  • ইতি => Y => Yttrium => ইট্রিয়াম
  • জেরিন => Zr => Zirconium => জিরকোনিয়াম
  • নাইরোবিতে => Nb => Niobium => নিওবিয়াম
  • মোবাইল => Mo => Molybdenum => মলিবডেনাম
  • টি => Tc => Technitium => টেকনেসিয়াম
  • রুথের => Ru => Ruthenium => রুথেনিয়াম
  • রোড => Rh => Rhodium => রোডিয়াম
  • পালাবার => Pd => Palladium => প্যালাডিয়াম
  • আগে => Ag => Silver => সিলভার
  • কাঁদছিল => Cd => Cadmium => ক্যাডমিয়াম

পর্যায় সারণির পর্যায় ৬

প্রতীক: La, Hf, Ta, W, Re, Os, Ir, Pt, Au, AG, Hg

মনে রাখার কৌশল:

  • লাকি ও হানিফ টাইটানিকে করে ওয়াবিকে রেখে আবার ইউরোপে প্লাটিনাম ও গোল্ড পায়

উদাহরণ সহ মৌলের নাম:

  • লাকি => La => Lanthanum => ল্যানথানাইড সিরিজ
  • হানিফ => Hf => Hafnium => হাফনিয়াম
  • টাইটানিকে => Ta => Tantalum => ট্যান্টালুম
  • ওয়াবিকে => W => Tungsten => টাংস্টেন
  • রেখে => Re => Rhenium => রেনিয়াম
  • আবার => Os => Osmium => অসমিয়াম
  • ইউরোপে => Ir => Eridium => ইরিডিয়াম
  • প্লাটিনাম => Pt => Platinum => প্লাটিনাম
  • গোল্ড => Au => Gold => গোল্ড
  • পায় => Hg => Mercury => পারদ বা মাকারি

পর্যায় সারণির পর্যায় ৭

প্রতীক: Ac, Rf, Db, Sg, Bh, Hs, Mt, Ds, Rg, Cn

মনে রাখার কৌশল:

  • আখির ছেলে রাফি ডুবাই সাগরে বাহিরে ভেসে হাফেজ আর মতিকে দেশে রেগে চিনেছে

উদাহরণ সহ মৌলের নাম:

  • আখির => Ac => Actinium => অ্যাকটিনাইড সিরিজ 
  • রাফি => Rf => Rutherfordium => রাদারফোর্ডিয়াম
  • ডুবাই => Db => Dubnium => ডুবনিয়াম
  • সাগরের => Sg => Seoborgium( সিওবোগিয়াম
  • বাহিরে -Bh => Bohrium => বোহরিয়াম
  • হাফেজ => Hs => Hassium => হ্যাসিয়াম 
  • মতিকে => Mt => Metnerium => মিটনেরিয়াম
  • দেশে => Ds => Damstadium => ডামস্টেডিয়াম
  • রেগে => Rg => Roentgenium => রন্টজেনিয়াম
  • চিনেছে => Cn => Copemicium => কপারনিসিয়াম

ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সিরিজের মৌলগুলো মনে রাখার কৌশল

ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সিরিজের মৌলগুলো পর্যায় সারণির পর্যায় ও পর্যায় ৭ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আগের সারণির মত করে এইগুলোও ছন্দ আকারে পড়ে মুখস্থ করতে হবে। ছন্দের মাধ্যমে পড়লে পড়া গুলো আমাদের খুব তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়ে যাবে। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সিরিজের মৌলগুলো মনে রাখার কৌশল সমূহ 

ল্যান্থানাইড মৌল গুলো মনে রাখার কৌশল

প্রতীক সমূহ: Ce, Pr, Nd, Pm, Sm, Eu, Gd, Tb, Dy, Ho, Er, Tm, Yb, Lu

মনে রাখার কৌশল: ছেলের প্রীতি এন্ড প্রেম সমান ইউরোপ গুড তবে ডাইরিয়া হয় এর টমেটো ইয়লো ব্লু

অ্যাক্টিনাইড মৌল গুলো মনে রাখার কৌশল

প্রতীক সমূহ: Th, Pa, U, Np, Pu, Am, Cm, Bk, Cf, Es, Fm, Md, No, Lr

মনে রাখার কৌশল: থাকলে পাশে ইউ এনপি পুঁথি আমার কমেনা বিকেলে ক্যাফেতে এসে এফ এম মোডে নুডলস লাড়ি

পর্যায় সারণির সব মৌল ছন্দের সাহায্যে মনা রাখার কৌশল আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়েছে আশা করি আপনাদের বেশ উপকারে আসবে।

 রায়হান আইটির শেষ কথা

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি পর্যায় সারণি মনে রাখার কৌশল সম্পর্কে। আমরা দেখিয়েছি কিভাবে ছন্দের সাথে মিলিয়ে পর্যায় সারণি মুখস্থ করতে হয়। যাদের পর্যায় সারণি মুখস্থ করতে সমস্যা হয় তারা আমাদের দেওয়া ছন্দের মাধ্যমে খুব সহজে মুখস্থ করতে পারবেন।

চাকরি থেকে অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম

কোন সূরা পড়লে টেনশন দূর হয়

আমাদের আজকের পোস্টের বিষয় চাকরি থেকে অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে। আমরা যারা বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করে থাকি তাদের অন্য কোন কোম্পানিতে চাকরি হলে অব্যহতি পত্র জমা দেওয়া লাগে। আপনারা কিভাবে চাকরি থেকে অব্যহতি পত্র লিখে জমা দিবেন সে সম্পর্কে আমাদের আজকের এই পোস্ট।

চাকরি করা অবস্থায় নতুন কোন কোম্পানি বা পারিবারিক অথবা অন্য যেকোন কারণে সে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হলে আমাদের অব্যাহতি পত্র জমা দিতে হয়।

আমরা সবাই নিজেদের বা পরিবারের জন্য চাকরি করে থাকি। অনেক সময় সে চাকরির বেতন আমাদের কম পড়ে যায়। যার কারণে আমাদের নতুন চাকরির খোজ করতে হয়। আমরা অনেকেই চাকরি থেকে অব্যহতি নিতে চাই। চাকরি ছেড়ে দিয়ে চাই। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমাদের অব্যহতি পত্র জমা দিতে হয়। বিডি ক্রিয়েটিভ আইটিতে আজকে অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম বা রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।

আরো পড়ুনঃ ধাপে ধাপে জাতীয় পরিচয়পত্র যেভাবে সংশোধন করবেন

অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম

আমরা যারা প্রাইভেট কোন কোম্পানিতে চাকরি করি আমাদের সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। কারণ প্রাইভেট কোম্পানি থেকে সে সেলারি দেওয়া হয় সেটা আমাদের কম হতে পারে অথবা অন্য কোম্পানিতে ভালো কোন পোস্টে চাকরি পাওয়ার কারণে আমাদের চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। এই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমাদের অব্যহতি পত্র বা রিজাইন লেটার জমা করতে হয়।

আমরা মনে করি চাকরির অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম টা ভিন্ন। আসলে তেমন কিছু না, আমরা যেভাবে আবেদন পত্র লিখে থাকি ঠিক সেভাবে আমাদেরকে চাকরির অব্যাহতি পত্র লিখতে হয়। যেকোন আবেদন পত্র বা অব্যাহতি পত্র লেখার সময় আমাদের একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে হাতের লেখা। আমাদের হাতের লেখা সুন্দর করে লিখতে হবে।

চাকুরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য অব্যাহতির পত্র লিখতে হয়। অন্যান্য যেকোন আবেদন পত্র লেখার নিয়ম এর মতোই অব্যাহতি পত্র লিখতে হয়। নিচে আপনাদের জন্য অব্যাহতি পত্র অথবা রিজাইন লেটার এর কিছু নিয়ম দেখিয়ে দিচ্ছি। এই নিয়ম গুলো অনুসরণ করে সুন্দর করে একটি বাংলায় রিজাইন লেটার লিখতে পারেন।

বাংলায় রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম । অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম

এখন আমরা দেখবো পারিবারিক সমস্যার কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য অব্যাহতি পত্র যেভাবে লিখতে হয়। আমাদের অনেক সময় পারিবারি সমস্যার কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে হয় বা চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। পারিবারিক সমস্যার কারণে যদি আমরা চাকরি ছেড়ে দিয়ে থাকি এইটার কারণেও আমাদের কে অব্যাহতি পত্র জমা দিতে হবে। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক পারিবারিক সমস্যার কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম।

তারিখ: (এইখানে তারিখ উল্ল্যেখ করতে হবে)
বরাবর,
ব্যবস্থাপক
আইটি বিভাগ
রায়হান আইটি কোম্পানি লিঃ
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম

বিষয়ঃ চাকুরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন।

জনাব,

সম্মান পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মোঃ মনিরুল ইসলাম। আপনার রায়হান আইটি কোম্পানীতে দীর্ঘ ১ বছর যাবৎ হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। বর্তমানে আমার কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আগামী (এইখানে আপনার তারিখ দিবেন) হতে আপনার কোম্পানিতে দায়িত্বে থাকতে পারবো না।

অতএব, জনাবের নিকট আকূল আবেদন এই যে, আমাকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে বাধিত করবেন।

নিবেদক-
(এইখানে আপনার স্বাক্ষর দিবেন)
মনিরুক ইসলাম
হিসাবরক্ষক
রায়হান আইটি কোম্পানি লিঃ
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।

আরো পড়ুনঃ দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায় সমূহ

চাকরি থেকে অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম । রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম

আমরা যখন অন্য কোন কোম্পানিতে উন্নত মানের চাকরি করার সুযোগ পেয়ে যায় তখন আমাদেরকে বর্তমান চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে। এখন আমরা দেখবো অন্য কোন কোম্পানি চাকরি পাওয়ার পর বর্তমান কোম্পানি থেকে কীভাবে অব্যাহতি নিতে হয়। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক-

তারিখ: (এইখানে তারিখ উল্ল্যেখ করতে হবে)
বরাবর,
ব্যবস্থাপক
আইটি বিভাগ
রায়হান আইটি কোম্পানি লিঃ
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম

বিষয়ঃ চাকুরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন।

জনাব,

সম্মান পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মোঃ মনিরুল ইসলাম। আপনার রায়হান আইটি কোম্পানীতে দীর্ঘ ১ বছর যাবৎ হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। কিছুদিন পূর্বে আমি যমুনা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানিতে সিনিয়র হিসাবরক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছি। তাই, আগামী (এইখানে আপনার তারিখ দিবেন) হতে আপনার কোম্পানিতে দায়িত্বে থাকতে পারবো না।

অতএব, জনাবের নিকট আকূল আবেদন এই যে, আমাকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে বাধিত করবেন।

নিবেদক-
(এইখানে আপনার স্বাক্ষর দিবেন)
মনিরুক ইসলাম
হিসাবরক্ষক
রায়হান আইটি কোম্পানি লিঃ
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।

চাকরি করা অবস্থায় নতুন কোন কোম্পানি বা পারিবারিক অথবা অন্য যেকোন কারণে সে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হলে আমাদের অব্যাহতি পত্র জমা দিতে হয়। ইতিমধ্যে আমরা চাকরি থেকে অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম বা বাংলায় রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। উপরের নিয়ম গুলো মেনে আপনি চাইলে রিজাইন লেটার বা অব্যাহতি পত্র লিখতে পারবেন। 

আমাদের শেষ কথা

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পেরেছেন চাকরি থেকে অব্যাহতি পত্র লেখার নিয়ম বা রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম সম্পর্কে। বিডি ক্রিয়েটিভ আইটির আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের সাথে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আপনি যদি উপরের নিয়মগুলো অনুসরণ করেন, তাহলে সহজেই বাংলায় রিজাইন লেটার লিখতে পারবেন। আজকের আর্টিকেল এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ্‌ হাফেয।

দরখাস্ত লেখার নিয়ম, নমুনা ও উদাহরন ২০২৪

ঘরে বসে আয় করুন ১৫০০০-২০০০০ টাকা প্রতি মাসে

দরখাস্ত আমাদের জীবনের একটি গুরুপ্তপূর্ণ অনুসঙ্গ। আমাদের বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য দরখাস্তের প্রয়োজন হয়ে থাকে। আমরা অনেকেই দরখাস্ত লিখতে পারি না। যেহেতু এই দরখাস্ত আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে হয়, সে জন্য দরখাস্ত লেখার নিয়ম বিস্তারিত ভাবে জেনে রাখা ভালো। 

জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনপত্র।     উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে আবেদনপত্র।      উপবৃত্তির জন্য আবেদনপত্র।     জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদনপত্র     পত্রিকায় চাকরির জন্য আবেদনপত্র।      পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আবেদনপত্র।      চাকরির জন্য আবেদনপত্র।      হঠাৎ ছুটির জন্য আবেদনপত্র।     অগ্রিম ছুটির জন্য আবেদনপত্র।     ছাড়পত্রের জন্য আবেদনপত্র।     ছাত্রাবাসে আসন চেয়ে আবেদনপত্র।      বনভোজনে যাওয়ার জন্য আবেদনপত্র।     ক্যান্টিন বা কমনরম চালু কিংবা চালু থাকলে তার সুবিধা বৃদ্ধির জন্য আবেদনপত্র।     মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আবেদনপত্র।

দরখাস্ত এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Application, আবার দরখাস্তকে আমরা সাধারণত আবেদনপত্র হিসেবে চিনে থাকি। দরখাস্ত বা আবেদনপত্র কীভাবে লিখতে হয় সে বিষয়ে আমাদের জানার প্রয়োজন।  দরখাস্ত বা আবেদনপত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানবো আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে।

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন দরখাস্ত লেখার যাবতীয় নিয়ম সম্পর্কে। Dorkhasto lekhar niyom, Dorkhasto lekhar jabotiyo niyom, ki ki bishoye dorkhasto lekha jay. Dorkhasto lekhar niyom jante chai সম্পর্কে জানতে আমাদের আজকের আর্টিকেলে সম্পূর্ণ দেখুন।

দরখাস্ত বা আবেদনপত্র লেখার আগে আমরা জেনে নিবো দরখাস্ত কি এই বিষয়ের উপর। dorkhasto ki, What is an application?

আরো পড়ুনঃ ধাপে ধাপে জাতীয় পরিচয়পত্র যেভাবে সংশোধন করবেন

দরখাস্ত কি?

কিছু নিয়ম ও নীতি অনুসরণ করে অন্য কোন ব্যাক্তির কাছে বিশেষ বা নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে যে আবেদন করা হয় অথবা যে চিঠি পাঠানো হয় তাকে দরখাস্ত বলে। দরখাস্ত এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Application বা ফরমাল লেটার, আবার দরখাস্তকে আমরা সাধারণত আবেদনপত্র বা অফিসিয়াল চিঠি হিসেবেও চিনে থাকি।

কি কি বিষয়ে দরখাস্ত লেখা হয়

আমরা চাইলে দরখাস্ত লিখতে পারবো না। দরখাস্ত লেখার নির্দিষ্ট কোন কারন থাকা লাগবে। নির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়া আমরা  দরখাস্ত লিখতে পারবো না। সাধারণত আমাদের নিজেদের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কোন বিষয়ে জানানোর জন্য আমরা দরখাস্ত লিখে থাকি। আমরা এই পর্যায়ে জানবো আমরা কি কি বিষয়ের জন্য আর্টিকেল লিখতে পারি। দরখাস্ত লেখার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, আমরা সে প্রকারভেদ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

  • জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনপত্র।
  • উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে আবেদনপত্র। 
  • উপবৃত্তির জন্য আবেদনপত্র
  • জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদনপত্র
  • পত্রিকায় চাকরির জন্য আবেদনপত্র। 
  • পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আবেদনপত্র। 
  • চাকরির জন্য আবেদনপত্র। 
  • হঠাৎ ছুটির জন্য আবেদনপত্র
  • অগ্রিম ছুটির জন্য আবেদনপত্র
  • ছাড়পত্রের জন্য আবেদনপত্র
  • ছাত্রাবাসে আসন চেয়ে আবেদনপত্র। 
  • বনভোজনে যাওয়ার জন্য আবেদনপত্র
  • ক্যান্টিন বা কমনরম চালু কিংবা চালু থাকলে তার সুবিধা বৃদ্ধির জন্য আবেদনপত্র
  • মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আবেদনপত্র

এইগুলো ছাড়াও আমাদের আরো অনেক কাজে দরখাস্ত লেখার প্রয়োজন হয়ে থাকে। আমাদের দৈনন্দিন কাজে দরখাস্ত লেখার প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাহলে চলুন দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।

দরখাস্ত লেখার নিয়ম

আমাদের আর্টিকেলের শুরুতে আমরা বলে দিয়েছিলাম দরখাস্ত কেনো লেখা হয়ে থাকে। দরখাস্ত লেখার বিভিন্ন কারণ হয়ে থাকে, দরখাস্ত লেখার কয়েকটি কারণ আমরা আর্টিকেলের শুরুতে উল্ল্যেখ করেছিলাম। এখন আমরা জানবো দরখাস্ত লেখার মূল নিয়ম গুলো। এই নিয়ম গুলো ছাড়া আপনার দরখাস্ত সম্পূর্ণ হবে না। আপনি যেকোন দরখাস্তে এই নিয়ম গুলো দ্বারা দরখাস্ত লিখতে পারবেন।

  • দরখাস্ত লেখার নিয়ম: দরখাস্ত লেখার নিয়মের মধ্যে সব থেকে গুরুপ্তপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তারিখ। আপনি যে দিন দরখাস্ত লিখবেন সে দিনের তারিখ দরখাস্তের মধ্যে উল্ল্যেখ করতে হবে। যে পৃষ্টার মধ্যে দরখাস্ত লিখবেন সে পৃষ্টার শুরুতে বাম পাশে তারিখ লিখতে হবে। 
  • প্রাপকের পদবি ও ঠিকানা: দরখাস্ত লেখার এর পরের নিয়মটি হলো প্রাপকের পদবি ও ঠিকানা লেখা। প্রাপক মানে হচ্ছে আপনি যার উদ্দেশ্যে দরখাস্ত লিখবেন তিনি হচ্ছেন প্রাপক, অর্থাৎ আপনি কার কাছে লিখছেন দরখাস্তটি তার তথ্য।  প্রাপক যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান সেখানের ঠিকানা দিতে হবে।
  • দরখাস্তের বা আবেদনের বিষয়: এরপর লিখতে হবে দরখাস্তের বা আবেদনের বিষয়। অর্থ্যাৎ আপনি যে বিষয়ে দরখাস্ত বা আবেদন পত্র দিবেন সেটা উল্ল্যেখ করে দিবেন। এই লেখাটা সাধারণত ৪-৫ শব্দের মধ্যে হয়ে থাকে। 
  • সম্ভাষণ: এরপর আপনাকে দিতে হবে সম্ভাষণ। লেখার সময় শুরুতে আমরা জনাব বলে সম্বোধন করবো। এখন ম্যাডাম, স্যার এই বিষয় গুলো তেমন একটা কেউ ব্যবহার করে না। তাই আমাদের কে শুরুতে জনাব লিখে দরখাস্তের মূল বিষয় লেখা শুরু করতে হবে।
  • আবেদনের মূল অংশ: এই অংশে আপনাকে লিখতে হবে আবেদনের মূল অংশ। এই অংশে আপনি যার কাছে আবেদনপত্র বা দরখাস্ত দিবেন তাকে সংক্ষিপ্ত অথচ গঠনমূলক ভাবে লিখবেন। যত কম শব্দের মধ্যে গুছিয়ে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবেন তত মানসম্মত হবে আপনার দরখাস্ত বা আবেদন পত্র। 
  • আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা: এটি হচ্ছে দরখাস্ত বা আবেদনপত্র লেখার শেষ নিয়ম। এই অংশে আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা উল্ল্যেখ করতে হবে। সাধারণত বিনীত বা নিবেদক অথবা বিনীত নিবেদক একসাথে লিখেও দিতে পারেন। এরপর নিচে আপনার নাম, আপনার পদবী, আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম অর্থ্যাৎ আপনার পরিচয় দিতে হবে। এর মাধ্যমে আপনার দরখাস্ত লেখা শেষ হয়ে যাবে। 

আপনি উপরে দেখানো নিয়ম গুলো মেনে দরখাস্ত বা আবেদনপত্র লিখে ফেলতে পারবেন কোন ধরনের ভূল ছাড়া। কারণ ভূল দরখাস্ত বা আবেদনপত্র কোন প্রাপক গ্রহন করবে না। আপনাকে অবশ্যই উপরের নিয়ম গুলো মেনে দরখাস্ত বা আবেদনপত্র লিখতে হবে।

দরখাস্ত লেখার নিয়ম, নমুনা ও উদাহরন

তারিখ: 

বরাবর,

প্রাপকের পদবী (প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা/অধ্যক্ষ/এমডি)

প্রতিষ্ঠানের নাম

প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা (এইখানে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা লিখতে হবে, এইখানে সাধারণত জেলা বা শহরের নাম দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নাম হলে পূর্ণ ঠিকানা দেওয়ার চেষ্টা করবেন)

বিষয় (এইখানে আপনার দরখাস্তের বিষয় লিখতে হবে) 

সম্ভাষণ (জনাব বা জনাবা লিখবেন এইখানে)

মূল লেখা (এইখানে আপনার দরখাস্তের মূল বিষয় লিখতে হবে। সবিনয় নিবেদন এই যে…এভাবে শুরু করতে হবে)

বিনীত নিবেদক

প্রেরকের নাম ঠিকানা

চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম

আমরা এতোক্ষন যে দরখাস্ত বা আবেদনপত্র লেখার যে নিয়মটি দেখলাম সেটি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক আবেদন পত্র লেখার নিয়ম। আমাদের আর্টিকেলের এই অংশে আমরা জানবো চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে। 

আমরা সাধারণত খুজে থাকি chakrir dorkhasto lekhar niyom. Kivabe likhte hoy chakrir dorkhasto. এই বিষয় গুলো নিয়ে। ঘাবড়ানোর কিছুই নেই , এইটাও প্রাতিষ্ঠানিক দরখাস্তের মতো করে লিখতে হয়। 

তবে এইখানে একটি বিষয় হচ্ছে আপনাকে নমনীয় ভাবে দরখাস্ত বা আবেদন পত্র লিখতে হবে। চাকরিটি যে আপনার খুবই প্রয়োজন সেটি দরখাস্তের মাধ্যমে বুঝাতে হবে। 

চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো আপনার হাতের লেখা অবশ্যই সুন্দর হতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক দরখাস্তের আমাদের সোর্সের কোন প্রয়োজন হয় না কিন্তু চাকরির দরখাস্তে আমাদের সোর্সের প্রয়োজন হয়ে থাকে। যে সোর্সের মাধ্যমে আমরা চাকরির জন্য আবেদন করতেছি সেটি উল্ল্যেখ করতে হবে। 

চাকরির দরখাস্তের সাথে যে গুলো দিতে হবে সেগুলো হলো:- 

  • বায়োডাটা বা জীবনবৃত্তান্ত
  • পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সার্টিফিকেট
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি

তাছাড়া বাকি সব নিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক দরখাস্তের মতোই। 

আমাদের শেষ কথা

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি দরখাস্ত বা আবেদনপত্র লেখার মেজর দুইটি নিয়ম সম্পর্কে। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে। 

আপনার কি ধরনের দরখাস্তের প্রয়োজন হবে সেটা চিন্তা করুন এবং আমাদের দেওয়া নিয়ম গুলো মেনে দরখাস্ত লেখা শুরু করে দিন। দরখাস্তবা আবেদনপত্র লেখার কোন নিয়ম না বুঝলে আমাদের কমন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ - সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সমাধান

দাঁতের মাড়ি শক্ত ও মজবুত করার উপায়

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সমাধান - আমরা যারা একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করতেছি এবং যারা আর্টস বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করতেছি তাদের সমাজবিজ্ঞান ১ম ও ২য় পত্র বইটি রয়েছে। সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র বইয়ের প্রথম অধ্যায় সমাজ বিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হবে। সমাজ বিজ্ঞান প্রথম পত্র বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের নাম হলো সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ। এখানে অনেক ধরনের প্রশ্ন হয়েছে যা তোমাদের কাজে লাগতে পারে। 

সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ - সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সমাধান Inbox

ভূমিকা - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

যারা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করতেছো এবং সামনে পরীক্ষা দিবা তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট অনেক উপকারী হবে। এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র বইয়ের প্রথম অধ্যায় সমাজ বিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ থেকে বেশ করেছি জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছি। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলোর সাথে সুন্দরভাবে উত্তর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর গুলো সহজ করে দেয়া হয়েছে। 

আমাদের দেওয়া জ্ঞান মূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলো খাতায় তুলে নিবে অথবা আমাদের সাইট থেকেও তোমরা খুব সহজে প্রশ্নগুলোর উত্তর করতে পারবে। তাহলে আজকের এই পোস্ট সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ অধ্যায় জ্ঞান মূলক ও অনুধাবনমূলক কয়েকটি প্রশ্ন সমাধান করা হলো। 

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সমাধান 

নিচে সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রথম অধ্যায় সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ থেকে বেশ কয়েকটি জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উল্লেখ করা হলো। 

প্রশ্ন:- ১ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. "সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- উক্ত সংজ্ঞাটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর?  

উত্তর:- "সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের 

খ. সমাজবিজ্ঞান একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান- ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়। আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপণ্য বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্জ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার-বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়। 

প্রশ্ন:- ২ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. The Communist Manifesto গ্রন্থটির লেখক কে? 

উত্তর:- "The Communist Manifesto"- গ্রন্থটির লেখক জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্কস। 

খ. সামাজিকীকরণ বলতে কী বোঝ? 

উত্তর:- যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবশিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়, তাকে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া বলে। সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। শিশুর জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়াই হলো সামাজিকীকরণ। সামাজিকীকরণ ব্যক্তিকে তার সামাজিক জগতে অনুপ্রবেশ করায়, তাকে সমাজের নানা ধরনের কাজকর্মে অংশগ্রহণকারী সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে এবং সমাজের আদর্শ ও মূল্যবোধ গ্রহণে তাকে উদ্বুদ্ধ করে। 

আরো পড়ুনঃ কোন সূরা পড়লে টেনশন দূর হয়

প্রশ্ন:- ৩ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. সামাজিক মনোবিজ্ঞানীরা কী নিয়ে আলোচনা করে?  

উত্তর:- সামাজিক মনোবিজ্ঞানীরা সমাজে বসবাসকারী মানুষের মন নিয়ে আলোচনা করে। 

খ . সমাজবিজ্ঞানের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী? 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞানের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো- সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান বা সমাজের আলোচনা। সমাজবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ Sociology শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Socius এবং গ্রিক শব্দ Logos থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। Socius অর্থ সমাজ এবং Logos অর্থ জ্ঞান। ল্যাটিন শব্দ Socius শব্দের আক্ষরিক অর্থ সঙ্গী। তবে যেহেতু সঙ্গবদ্ধ জীবনের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে ওঠে তাই Socius এর ভাবার্থ হলো সমাজ। Sociology শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ব্যাখ্যা করে 'সমাজ বিজ্ঞানকে সমাজ সম্পর্কিত জ্ঞান বলে আখ্যায়িত করা যায়। 

প্রশ্ন:- ৪ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. নৃবিজ্ঞানী লুইস মর্গানের ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী? 

উত্তর:- মার্কিন নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মগানের ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম- "Ancient Society" 

খ. সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলে কেন? 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞান ন্যায়-অন্যায় বোধ নিরপেক্ষ অর্থাৎ বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিপ্রবণ বিজ্ঞান বলে সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলা হয়। বিজ্ঞানের প্রধান ধর্মই হচ্ছে নৈতিকতার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকা। আর তাই সমাজবিজ্ঞানও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। সমাজবিজ্ঞানীগণ সামাজিক বা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের দ্বারা কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়ে যাবতীয় সামাজিক ঘটনা বিচার-বিশ্লেষণ করেন। এ কারণে সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 

প্রশ্ন:- ৫ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করতে কোন বিষয়ের উদ্ভব ঘটেছে?  

উত্তর:- বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করতে সামাজিক মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে। 

খ. সমাজবিজ্ঞানকে কেন সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়? 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয় কারণ সামাজিক মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ-মূল্যবোধ, কার্যাবলি, রীতিনীতি কীভাবে পারস্পারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং কীভাবে এর গতিশীলতা বজায় থাকে তা নিয়ে অধ্যয়ন করতে গিয়ে গোটা সমাজের মধ্যে এর অনুসন্ধান করতে হয়। এছাড়াও সমাজবিজ্ঞান সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের পারস্পারিক নির্ভরশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক, সাধারণ জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, সহযোগিতা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে। 

প্রশ্ন:- ৬ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করতে কোন বিষয়ের উদ্ভব ঘটেছে?  

উত্তর:- বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করতে সামাজিক মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে। 

খ. সমাজবিজ্ঞানকে কেন সমাজের পূর্ণাজা পাঠ বলা হয়? 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞান সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক, সাধারণ জীবনযাত্রা প্রণালি বা সংস্কৃতি, মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, সহযোগিতা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠান, সমাজের পরিবর্তনশীলতা, সমাজের বিভিন্ন উপাদান প্রভৃতি সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করে থাকে। সমাজবিজ্ঞান যে শুধু সহজ সরল সমাজ নিয়ে আলোচনা করে এমন নয়, বর্তমান জটিল থেকে জটিলতায় রূপধারণকারী সমাজেরও খুঁটিনাটি আলোচনা করে। এ সব প্রেক্ষিতেই সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলে অভিহিত করা হয়। 

প্রশ্ন:- ৭ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. নৃবিজ্ঞান কাকে বলে?  

উত্তর:- মানুষের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে নৃবিজ্ঞান বলে। 

খ. পরিবারের সমাজবিজ্ঞান যা নিয়ে আলোচনা করে তা ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর:- পরিবারের সমাজবিজ্ঞান পরিবারের উৎপত্তি, বিকাশ, প্রকরণ, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি এবং সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে। পরিবারের সমাজবিজ্ঞান সমাজ ও যুগভেদে পরিবারের কাঠামো ও প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করে। এটি পরিবর্তনশীল সমাজের প্রেক্ষাপটে পরিবারের ভূমিকা ও কার্যাবলি সম্পর্কে গবেষণা চালায়। এর পাশাপাশি এটা বিবাহ, বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, বিবাহের রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান এবং মানবসমাজে বিবাহের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে। পরিবারের সমাজবিজ্ঞান জ্ঞাতি সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করে। 

প্রশ্ন:- ৮ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. কোন কোন শব্দের সমন্বয়ে 'Sociology' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে? 

উত্তর:- ল্যাটিন শব্দ 'Socius' এবং গ্রিক শব্দ 'Logos'-এর সমন্বয়ে ইংরেজি 'Sociology' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। 

খ. সমাজবিজ্ঞানকে 'মানব সম্পর্কের বিজ্ঞান' বলা হয় কেন? 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞান যেহেতু মানব আচরণ ও সমাজ সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে তাই একে 'মানব সম্পর্কের বিজ্ঞান' বলা হয়। বস্তুত সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজ সম্পর্কিত বস্তুনিষ্ঠ পাঠ বা বিশ্লেষণ। বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য থাকলেও তাদের প্রদত্ত সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞার মধ্যে একটি বিষয়ে মিল লক্ষ করা যায়। আর তা হচ্ছে, সমাজবিজ্ঞানের প্রায় সকল সংজ্ঞাতেই সমাজবন্ধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ- সমাজবিজ্ঞান মূলত সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা করে থাকে। আর এ জন্যই সমাজবিজ্ঞানকে 'মানব সম্পর্কের বিজ্ঞান' বলা হয়ে থাকে। 

প্রশ্ন:- ৯ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক গতিশীলতার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন কে? 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক গতিশীলতার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন অগাস্ট কোঁৎ। 

খ. সমাজবিজ্ঞানকে কেন ঐতিহ্যগতভাবে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলা হয়? 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞান ন্যায়-অন্যায় বোধ নিরপেক্ষ অর্থাৎ বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিপ্রবণ বিজ্ঞান বলে সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলা হয়। বিজ্ঞানের প্রধান ধর্মই হচ্ছে নৈতিকতার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকা। আর তাই সমাজবিজ্ঞানও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। সমাজবিজ্ঞানীগণ সামাজিক বা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের দ্বারা কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়ে যাবতীয় সামাজিক ঘটনা বিচার-বিশ্লেষণ করেন। এ কারণেই সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 

প্রশ্ন:- ১০ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. ম্যাকাইভারের মতে, মানসিক ঘটনা কী? 

উত্তর:- ম্যাকাইভারের মতে, সমাজজীবনের যা কিছু একজন জীবিত মানুষ করে বা ভোগ করে, যা কিছু ইতিহাস ও অভিজ্ঞতায় পাওয়া যায় তার সবই হলো মানসিক ঘটনা। 

খ. সমাজবিজ্ঞান বিকাশে জিয়ামবাতিস্তা ভিকোর অবদান ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর:- ইতালিতে সমাজবিজ্ঞান বিকাশে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন জিয়ামবাতিস্তা ভিকো তার অন্যতম। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত নববিজ্ঞানে জাতিসমূহের সাধারণ প্রকৃতি নিয়ে যে আলোচনা করেন তা সমাজবিজ্ঞান বিকাশে অসামান্য অবদান রাখে। তিনি বিশ্বাস করতেন সমাজ কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নিয়মের অধীন এবং বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও পাঠের মাধ্যমে সমাজ বিকাশের সূত্রাবলিকে আবিষ্কার করা যায়। তার উক্ত দৃষ্টিভঙ্গি সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ সাধনে অনবদ্য অবদান রাখে। 

প্রশ্ন:- ১১ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. "সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- উত্ত সংজ্ঞাটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর?  

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের। 

খ. সমাজবিজ্ঞান একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান- ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়। আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপঞ্চ বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্চ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেস্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার-বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়। 

প্রশ্ন:-১২ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করতে কোন বিষয়ের উদ্ভব ঘটেছে? 

উত্তর:- বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করতে সামাজিক মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে। 

খ. সমাজবিজ্ঞানকে কেন সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়? 

উত্তর:- সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয় কারণ সামাজিক মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ-মূল্যবোধ, কার্যাবলি, রীতিনীতি কীভাবে পারস্পারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং কীভাবে এর গতিশীলতা বজায় থাকে তা নিয়ে অধ্যয়ন করতে গিয়ে গোটা সমাজের মধ্যে এর অনুসন্ধান করতে হয়। এছাড়াও সমাজবিজ্ঞান সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের পারস্পারিক নির্ভরশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক, সাধারণ জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, সহযোগিতা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে। 

প্রশ্ন:- ১৩ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ, সঞ্চয় কোন শাস্ত্রের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়? 

উত্তর:- উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ, সঞ্চয় ইত্যাদি অর্থনীতি শাস্ত্রের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। 

খ. সমাজতাত্ত্বিক মতবাদ গোষ্ঠী সম্পর্কে লেখো। 

উত্তর:- সমাজতাত্ত্বিক মতবাদ গোষ্ঠী সমাজ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবেশ এবং সামাজিক শক্তিসমূষের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। এই গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে ব্যক্তির আচরণ তার সামাজিক প্রভাবের ফল। সমাজতাত্ত্বিক মতবাদ গোষ্ঠীটি অবশ্য অন্যান্য মতবাদ গোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি অস্বীকার করে না। 

প্রশ্ন:- ১৪ - সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

ক. নৃবিজ্ঞান কাকে বলে? 

উত্তর:- মানুষের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে নৃবিজ্ঞান বলে। 

খ. পরিবারের সমাজবিজ্ঞান যা নিয়ে আলোচনা করে তা ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর:- পরিবারের সমাজবিজ্ঞান পরিবারের উৎপত্তি, বিকাশ, প্রকরণ, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি এবং সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে। পরিবারের সমাজবিজ্ঞান সমাজ ও যুগভেদে পরিবারের কাঠামো ও প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করে। এটি পরিবর্তনশীল সমাজের প্রেক্ষাপটে পরিবারের ভূমিকা ও কার্যাবলি সম্পর্কে গবেষণা চালায়। এর পাশাপাশি এটা বিবাহ, বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, বিবাহের রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান এবং মানবসমাজে বিবাহের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে। পরিবারের সমাজবিজ্ঞান জ্ঞাতি সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করে। 

রায়হান আইটির শেষ কথা 

প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ আশা করি তোমরা তোমাদের সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ অধ্যায়ের প্রশ্নগুলোর সমাধান পেয়েছ। আমরা চেষ্টা করেছি সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র এই বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের সব প্রশ্ন দেওয়ার জন্য। তোমাদের পরীক্ষার মধ্যে আশা করি প্রশ্নগুলো কমন পড়বে। আমাদের দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর ভালোভাবে পড়লে খুব সহজেই মুখস্থ করতে পারবে। একটু ভালোভাবে বুঝে পড়তে পারলে প্রশ্নগুলো তোমার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। পরবর্তীতে আমরা সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্রের বাকি অধ্যায় গুলোর প্রশ্নপত্র ও উত্তরমালা নিয়ে আসব।

অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম ২০২৪

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। গরিব ঘরের সন্তানরা চাইলেও তাদের পড়াশুনার খরচ চালাতে পারে না। তাদের মা-বাবা তাদের পড়ালেখার খরচ বহন করতে না পারার কারণে অনেক ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা করা সম্ভব হয় না। তাই বাংলাদেশের সরকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করেছে উপবৃত্তি। যারা উপবৃত্তি নিতে আগ্রহী তারা অবশ্যই শিক্ষার্থী হতে হবে। উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। আমাদের আজকের আর্টিকেলের বিষয় অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম ২০২৪।

অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম ২০২৪, উপবৃত্তি আবেদন অনলাইন ফরম, উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণ, অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদনের নিয়মাবলী

বাংলাদেশের একটি বিশাল অংশ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে  থাকে। যার কারণে অর্থের অভাবে তাদের ছেলে মেয়ের পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে না। তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারে না। টাকার জন্য যেন কোন ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশুনা বন্ধ না হয়ে যায়, এই বিষয়কে মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার দরিদ্র এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করেছে। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যেতে পারে। 

উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে গেলে আগে অনেক ঝামেলাই পড়তে হতো। তবে বর্তমানে অনলাইন এর মাধ্যমে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়। এতে করে মানুষের সময় এবং ঝামেলা দুইটাই কমে গেছে। আমাদের আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে জানবো অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে।

উপবৃত্তি কী?

যারা অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল বা দারিদ্র্য সেসব শিক্ষার্থীদের মাঝে সরকার থেকে যে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়ে থাকে, তাকে উপবৃত্তি বলা হয়। অনেকের পরাশুনার ইচ্ছা থাকলে যতেষ্ট পরিমানে টাকা পয়সা না থাকার কারণে তারা লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে না। সেসব শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার কতৃক উপবৃত্তির  ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা এই উপবৃত্তির টাকা গুলো দিয়ে যেন লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকার উপবৃত্তি চালু করার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে উপবৃত্তি কর্মসূচীর একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে।

অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম 

বাংলাদেশের প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুল-কলেজের উপবৃত্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। প্রকাশ করা হয় উপবৃত্তির ওয়েবসাইট এর মধ্যে যার নাম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সরকারি ভাবে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। 

উপবৃত্তির জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। সাথে কোন কোন প্রতিষ্ঠান গুলো উপবৃত্তির আওতায় পড়বে সেটাও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। 

উপবৃত্তির জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া কোন শিক্ষার্থীর জানা থাকলে সে সহজে আবেদন করতে পারবে। আবেদন করার জন্য অন্য কারো কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। 

অনলাইনে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য যাচাই বাছাই করা হবে। যাচাই বাছাই সম্পূর্ন হওয়ার পর সে তথ্য গুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট (PMEAT) এর ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেয়া হবে। যে যে শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য সিলেক্ট হবে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।  উপবৃত্তির বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে আবেদন সহ সকল যাবতীয় নির্দেশনা এই সাইটের মাধ্যমে পেয়ে যাবে, সাইটের লিংক হলো www.pmeat.gov.bd 

অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদনের নিয়মাবলী

শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে অনলাইনে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করার কিছু নিয়ম দেওয়া হয়ে থাকে, যেগুলো না মানলে উপবৃত্তির আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। 

চলুন তাহলে আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়মাবলী সম্পর্কে। 

  • ছবি: শিক্ষার্থীদের সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি দেওয়া লাগবে
  • স্বাক্ষর: এরপর প্রয়োজন হবে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে পরবর্তীতে সে স্বাক্ষর দিতে পারে। স্বাক্ষর অবশ্যই মনে রাখতে হবে। 
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: যে শিক্ষার্থী অনলাইনে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করবে সে কোন ক্লাসে পড়ের সেটা উল্ল্যেখ করতে হবে। 
  • জন্মসনদ: শিক্ষার্থীদের জন্মসনদ এর প্রয়োজন হবে। জন্মসনদের ১৭ ডিজিটের নাম্বারটির প্রয়োজন হবে এবং আবেদন পত্রে উল্ল্যেখ করতে হবে। 
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র: যে শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য আবেদন করবে সে কি আসলেই দরিদ্র কিনা অর্থাৎ সে শিক্ষার্তী উপবৃত্তির জন্য যোগ্য কিনা সেটার প্রমাণ-স্বরুপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি সুপারিশপত্র লাগবে। 
  • অভিভাবক প্রত্যয়ন পত্র: শিক্ষার্থীর বাবা অথবা মা যদি সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় অথবা চতুর্থ পদে কর্মরত থাকে তাহলে সে প্রতিষ্ঠান কতৃক প্রত্যয়ন পত্র এর প্রয়োজন হবে। 
  • অভিবাবকের জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার: শিক্ষার্থীর বাবা এবং মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার এর প্রয়োজন হবে। আবেদন ফরম পূরণ করার সময় উল্ল্যেখ করতে হবে। 
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর: উপবৃত্তির টাকা গ্রহন করার জন্য একটি বৈধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল ব্যাংকিং এর প্রয়োজন হবে। মোবাইল ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে সাধারণত বিকাশ বা নগদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আবার শিক্ষার্থীরা চাইলে পিতা এবং মাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বারও যুক্ত করতে পারবে। সেক্ষেত্রে পিতা অথবা মাতার নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থাকতে হবে।

উপরে উল্ল্যেখিত সব কিছু আবেদন পত্রে উল্ল্যেখ করতে হবে। ফরম পুরণ করার পর সে ফরম টি স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এরপর যাচাই বাছাই এর মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়া হবে। অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে ০১ টা মোবাইল নাম্বার দিয়ে শুধু মাত্র একজন শিক্ষার্থীর জন্য আবেদন করা যাব

উপবৃত্তি আবেদন অনলাইন ফরম

দারিদ্র্য এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উপবৃত্তির জন্য আবেদন করার সময় নিচের কিছু নিয়ম অনুসরন করুন।

  • প্রথমে শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে উপবৃত্তির আবেদন ফরম ডাউনলোদ করুন।
  • করা আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করুন
  • আবেদন ফরম টি ০৪ পাতার থাকবে। সঠিক তথ্য দিয়ে পূরন করুন
  • আপনার ফরম পূরণ করা শেষ হলে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়ে আসুন। এরপর অপেক্ষা করুন তালিকা প্রকাশের সময় পর্যন্ত। 
  • এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফরম গুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকিট জমা করে দিবে। 

ফরম ডাউনলোড করুন

যেসব শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আবেদন করতে পারবে

আমাদের আর্টিকেলের এই পর্যায়ে আমরা জানবো যেসব শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে তাদের সে সম্পর্কে। বাংলাদেশ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বাছাই করার পরে তালিকা প্রকাশ করা হবে। আবেদন করার সময় কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। যেগুলো এদিক সেদিক হলে কোন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য সিলেক্ট হবে না।  উপবৃত্তির জন্য স্কুল অথবা কলেজের ষষ্ঠ এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই শুধুমাত্র আবেদন করতে পারবে। আবেদন করার সময় যে যে জিনিস দেখা হয় সেগুলো নিচে উল্ল্যেখ করা হলো:  

  • শুরুতে আবেদনকারীর অভিভাবকের বাৎসরিক ইনকাম দেখা হয়ে থাকে। যদি বাৎসরিক ইনকাম ১ লক্ষ টাকার কম হয়ে থাকে তাহলে সেক্ষত্রে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। অন্যথায় বাতিল হবে। 
  • আবেদনকারীর মা-বাবার মোট সম্পত্তির পরিমাণ দেখা হয়। যদি মেট্রোপলিটন এলাকায় জায়গার পরিমান ০.০৫ শতাংশ হয় অথবা মেট্রোপলিটন এর বাহিরে ০.৭৫ শতাংশ হলে অথবা এর নিচে থাকলে সে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে।
  • আবেদনকারী যদি কোন সরকারী উপবৃত্তি আগে থেকে পেয়ে থাকে অথবা অভিভাবক যদি সরকারি কোন ভাতা পেয়ে থাকে তাহলে সে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। 
  • কোন আবেদনকারী যদি পঞ্চম শ্রেণী অথবা অষ্টম শ্রেণীতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক সরকারি বৃত্তি ট্যালেন্টপুল অথবা সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়ে থাকে তাহলে সে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। 

সরকারি উপবৃত্তির জন্য সাধারণত প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচন করা হয়ে থাকে। কারণ সেসব এলাকা গুলোতে দরিদ্র শিক্ষার্থীর পরিমান বেশি হয়ে থাকে। কোন আবেদনকারী উপবৃত্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে কিনা সেটা ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে জানতে পারবে। বিবেচিত হলে মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। সে শিক্ষার্থীকে আর সে প্রতিষ্ঠানে বেতন দিতে হবে না। তার পড়ালেখার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে।

উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণ

বাংলাদেশ সরকার কতৃক ২০১২ সালে উপবৃত্তি চালু করা হয়েছে। তখন প্রথম অবস্থায় প্রাইমারি লেভেলের শিক্ষার্থীর জন্য ১৫০ টাকা করে বরাদ্দ ছিলো। পরবর্তীতে সেটি ১৫০ টাকায় বরাদ্দ করা হয়েছে। আবার একই পরিবারে দুইজন শিক্ষার্থী থাকে তাহলে দুইজনই সমান পরিমান টাকা পাবে। 

এরপর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫,০০০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং উচ্চ মাধ্যমিক বা কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৮,০০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনা ঠিক মত চালিয়ে যেতে পারে না। সেসব শিক্ষার্থীরা চাইলে উপবৃত্তির মাধ্যমে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে।

আমাদের শেষ কথা

আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পেরেছেন কীভাবে অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করা যায়। অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম ২০২৪ সম্পর্কে ছিলো আমাদের আজকের এই আর্টিকেল। আমাদের আর্টিকেলের কোথাও না বুঝলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট করুন। আমরা আপনার সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশা-আল্লাহ।