Showing posts with label গর্ভবতী মা ও শিশু. Show all posts
Showing posts with label গর্ভবতী মা ও শিশু. Show all posts

শীতে শিশুর যত্নে কার্যকরী কিছু টিপস

শীতকাল অনেকের জন্য পছন্দের হলেও ছোট শিশুদের জন্য হতে পারে একটু কষ্টকর। শীতের শুষ্ক আবহাওয়া এবং তাপমাত্রার ওঠানামা শিশুর ত্বক, শ্বাসযন্ত্র এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শীতে শিশুদের সঠিক যত্ন নেওয়া উচিত। অনেক বাবা-মা শিশুর শীতকালীন যত্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তাই এই ব্লগ পোস্টে, আমরা শীতকালে শিশুর যত্ন নিয়ে কার্যকরী কিছু টিপস আলোচনা করব।

শীতে শিশুর যত্নে কার্যকরী কিছু টিপস, শীতকালে শিশুর যত্ন

শীতকালে শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত অসুখ যেমন সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের শুষ্কতা এবং ঠোঁট ফাটার মতো সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। তবে সঠিক যত্ন এবং কিছু কার্যকরী টিপস অনুসরণ করে শিশুর স্বাস্থ্য এবং আরাম নিশ্চিত করা সম্ভব। 

শীতে শিশুর যত্নে কী কী বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত এবং কিভাবে তাদের ছোটখাটো অসুখ দূরে রাখা যায়, এই পোস্টে তা বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। যারা প্রথমবার বাবা-মা হয়েছেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে, কারণ এসব সহজ পদক্ষেপ আপনার শিশুকে শীতের ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

শীতে নবজাতকের যত্ন করণীয় ও পরিচর্যা

নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে শীতে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই অংশে আমরা শীতে নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচর্যার কিছু কার্যকরী পরামর্শ ও করণীয় বিস্তারিত আলোচনা করব। 

শীতকালে বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন

শীতকালে শিশুর ত্বক খুব দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। এই শুষ্কতার কারণে শিশুরা ত্বকের চুলকানি ও অস্বস্তিতে ভোগে। তাই, শীতে শিশুর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেন।

ত্বক আর্দ্র রাখাঃ শীতকালে শিশুর ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় বলে প্রতিদিন শিশুর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এক্ষেত্রে শিশুর জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন বেবি কেয়ার প্রডাক্ট যেমনঃ ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। শীতে বাচ্চাদের জন্য ক্রিম ব্যবহার করলে তাদের ত্বক দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকে এবং শুষ্কতা থেকে রক্ষা পায়।

নিয়মিত তেল মালিশঃ শীতের সময় শিশুর ত্বকের সুরক্ষায় তেল মালিশ খুবই কার্যকরী। ঘরোয়া তেল যেমন নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদামের তেল দিয়ে প্রতিদিন ত্বকে আলতো করে মালিশ করলে ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকে। 

শীত উপযোগী সাবান ও শ্যাম্পুঃ শীতে শিশুর ত্বক শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাই এমন সাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত যা প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত। এসব সাবান ও শ্যাম্পু ত্বকের প্রাকৃতিক তেলকে বজায় রাখে এবং শুষ্কতা রোধে সহায়তা করে। 

ঠোঁট ও নাকের যত্নঃ শীতে শিশুর ঠোঁট ও নাক ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঠোঁট ফাটা এড়াতে শিশুর ঠোঁটে শিশুদের জন্য বিশেষ লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও, নাকের শুষ্কতা থেকে রক্ষা পেতে ন্যাজাল ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন, যা শিশুর শ্বাস নিতেও সুবিধা দিবে।

শিশুর নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

শীতের সময় নবজাতকের পরিচ্ছন্নতার প্রতি মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি অবশ্যই হতে হবে সুরক্ষিত এবং আরামদায়ক পদ্ধতিতে। শিশুর শরীর বারবার ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই নরম, শুষ্ক কাপড় বা টিস্যু ব্যবহার করা উচিত। 

গোসলের ক্ষেত্রে খুব গরম পানি নবজাতকের ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, তাই হালকা গরম পানিতে অল্প সময় ধরে গোসল করানো ভালো। সপ্তাহে ২-৩ বার হালকা গরম পানিতে গোসল করানো যথেষ্ট। 

শীতে বাচ্চাদের সঠিক পোশাক নির্বাচন

শীতকালে শিশুর আরাম ও উষ্ণতা বজায় রাখতে সঠিক পোশাক নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে তীব্র শীত থেকে রক্ষা দিবে আবার একইসাথে শিশুর জন্য আরামদায়ক হবে এমন পোশাক বাছাই করুন। 

লেয়ারিং বা স্তরে পোশাক পরিধানঃ শিশুকে একাধিক স্তরে পোশাক পরান, যা লেয়ারিং নামে পরিচিত। এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। এমনভাবে পোশাক পরান যাতে আপনি সহজেই লেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারেন। 

মোজা, টুপি ও গ্লাভস ব্যবহারঃ শিশুর মাথা, পা ও হাত ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করতে মোজা, টুপি ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। মাথা থেকে তাপমাত্রা দ্রুত বের হয়ে যায়, তাই টুপি পরানো অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, পা ও হাত গরম রাখতে মোজা ও গ্লাভস ব্যবহারে শিশুরা আরাম পায়।

নরম ও আরামদায়ক পোশাকঃ শীতে নবজাতক অথবা নিউবর্ন বেবি উলজাতীয় পোশাকে অস্বস্তি বোধ করতে পারে। এজন্য আরামদায়ক ও সুতির পোশাক ব্যবহার করুন। এটি শিশুর ত্বকে কোনো অস্বস্তি তৈরি করবে না। 

ঘরের পরিবেশ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

ঘর খুব ঠাণ্ডা হয়ে গেলে শিশু নানাবিধ কষ্ট অনুভব করবে। তাই ঘরে হিটার বা অন্যান্য গরম করার যন্ত্র ব্যবহার করে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখুন। শীতকালে জানালা বা দরজা বন্ধ করে রাখা হলেও কিছু সময় পরপর ঘরের দরজা-জানালা খুলে একটু বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। এতে ঘরের মধ্যে সতেজ বায়ু প্রবেশ করে এবং জীবাণু দূর হয়। 

শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ঘরের আর্দ্রতা কমে যায়। এটি শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। অথবা আপনার শিশুকে সকালে একটু রোদে নিয়ে যেতে পারেন। ত্বকে রোদ পড়লেই সেটি থেকে ভিটামিন ডি তৈরি হয় আর সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য। 

শীতে বাচ্চাদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা

শীতের শুষ্ক ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এবং শরীরকে উষ্ণ রাখার জন্য তাদের খাদ্যে কিছু বিশেষ পুষ্টিকর উপাদান সংযোজন করা উচিত। নিচে কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

শীতকালে সঠিক প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বাচ্চাদের শরীরকে মজবুত করে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • মাছ ও মাংস
  • ডিম
  • ডাল ও লেগুম
  • পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার

শীতকালে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন এবং মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার খুবই প্রয়োজনীয়। নিম্নের খাবারগুলোতে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে। 

  • ফল 
  • সবজি
  • বেদানা 
  • সাইট্রাস ফল
  • মিষ্টি কুমড়া
  • গাজর
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার

শীতকালে শিশুদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে দুধ, দই ও পনির খাওয়ানো যেতে পারে। হালকা গরম দুধ শীতকালে শরীরের জন্য আরামদায়ক এবং সহজে হজম হয়। 

এর পাশাপাশি আপনার বাচ্চাকে মিষ্টি দই বা গরম দুধের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। এছাড়াও অল্প পরিমাণে পনির শিশুদের জন্য প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে সহায়ক।

শক্তি সরবরাহকারী শস্যজাতীয় খাবার

শীতের দিনে শক্তি সরবরাহের জন্য শস্যজাতীয় খাবার জরুরি। এ জাতীয় খাবার শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট যোগায়। শস্যজাতীয় খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ 

  • খিচুড়ি
  • ওটমিল
  • নরম রুটি
  • চিড়া
  • শুকনো ফল ও বাদাম

শুকনো ফল এবং বাদাম শিশুরা সহজেই খেতে পারে, এবং এতে থাকে প্রয়োজনীয় ফ্যাট, যা শরীরকে শীতের সময় উষ্ণ রাখে। এই খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ 

  • আমন্ড 
  • কাজু
  • কিশমিশ
  • খেজুর
  • চিয়া সিড
  • পর্যাপ্ত পানি ও গরম পানীয়

শীতকালে শিশুরা কম পানি পান করে, কিন্তু শরীরের সঠিক হাইড্রেশন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই শিশুকে নিয়মিত পানি পান করানোর পাশাপাশি গরম পানিও দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও আপনার শিশুকে গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে দিতে পারেন। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

শীতকালে শিশুর রোগ প্রতিরোধে করণীয়

শীতকালে শিশুর সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যেমনঃ 

ভ্যাকসিন ও নিয়মিত চিকিৎসা

শীতকালে ঠাণ্ডা, কাশি, এবং ফ্লু থেকে রক্ষা পেতে শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে ভ্যাকসিন দিন। এছাড়াও, প্রয়োজনীয় টিকা এবং ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

হাত ধোয়ার অভ্যাস

শীতকালে শিশুকে বাইরে থেকে ঘরে আসার পর হাত-মুখ ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি জীবাণু সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা ও কাশির ঝুঁকি কমায়।

ঠাণ্ডা-কাশি হলে করণীয়

যদি শিশুর ঠাণ্ডা-কাশি হয় তবে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তাকে গরম পানির ভাপ দিতে পারেন। এছাড়াও, শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে ডাক্তার দেখান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিন।

বহিরাগতদের আসা কমানো

নবজাতকের আশেপাশের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার রাখুন। শিশুর সংস্পর্শে আসার আগে হাত ধুয়ে নেওয়া উচিত। এছাড়াও শীতকালে নবজাতকের সংস্পর্শে খুব বেশি মানুষকে আনা এড়িয়ে চলুন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

পর্যাপ্ত ঘুমানো

শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম তার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বৃদ্ধি করে। কিন্তু শীতে ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও শুষ্ক বাতাস শিশুর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই শিশুর পর্যাপ্ত ঘুমানো নিশ্চিত করতে উষ্ণ বিছানা প্রস্তুত করে তাকে আরামদায়ক পরিবেশের ব্যবস্থা করুন। 

উপসংহার

শীতকালে শিশুর সুরক্ষা ও সুস্থতার জন্য প্রতিদিনের যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরে শীতকালে শিশুর যত্ন বিষয়ক টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনার শিশুকে শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষা করা এবং সুস্থ রাখা সহজ হবে। শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে ত্বকের যত্ন, সঠিক পোশাক নির্বাচন, খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, এবং ঘরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় কয়েকটি ভুল ধারণ, সঠিক তথ্য জেনে থাকুন সুস্থ!

গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই একজন নারীর আশে পাশের পরিচিত লোকজন বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটা করবে না, ওইটা করবে না, এটা খাবে না, ওইটা খাবে না, এটা ব্যবহার করলে সন্তানের জন্য খুব খারাপ এরকম আরো কত যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু সব কিছুই কি আসলে মেনে চলাটা খুব জরুরী? কিছু ভুল ধারণাও তো থাকতে পারে। আসুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় ১০টি ভুল ধারণা নিয়ে বিস্তারিত। 

ফ্লু ভ্যাক্সিন (Flu vaccine) নেওয়া যাবে কী, একজন গর্ভবর্তী একদিনে কতটুকু খাবার খেতে পারবে,  হেয়ার ড্রাই ব্যাবহার করা যাবে কি প্রেগ্ন্যাসির সময়, গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণ করা যাবে কি, গর্ভাবস্থায় বডি স্ক্যানার ব্যাবহার করা যাবে কি, গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়া যাবে কি, গর্ভবতী নারী কয়টাস করতে পারবে কি, গর্ভাবস্থায় কোন দিকে ফিরে ঘুমানো উচিত, গর্ভাবস্থায় সহবাস করা যাবে কী, গর্ভাবস্থায় বাচ্চা পেটের কোন পাশে থাকে, গর্ভাবস্থায় তলপেটে ব্যথা হয় কেন

পেজ সূচিপত্র:

১: ফ্লু ভ্যাক্সিন (Flu vaccine) নেওয়া যাবে কী?

ভুল ধারণা: অনেকেই ভয় পান এটা ভেবে যে এর কারণে গর্ভে থাকা শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন হয়ত তার শিশুর কিছু হবে না কিন্তু তিনি নিজে ফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারেন।

সঠিক ধারণা: প্রেগনেন্সিতে নারীর Immune System কিছুটা পরিবর্তন আসে। এসময় একজন গর্ভবতী নারীর ফ্লু হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যার কারণে এ অবস্থায় ফ্লু ভ্যাক্সিনেশন মা এবং মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর জন্য খুবই জরুরি।

২: একজন গর্ভবতী একদিনে কতটুকু খাবার খেতে পারবে?

ভুল ধারণা: দুই জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ যতটুকু খাদ্য গ্রহণ করে তত পরিমাণ খাদ্য একজন গর্ভবতী খেতে পারবে।

সঠিক ধারণা: যদি একজন গর্ভবতী নারীর ওজন গর্ভধারণের আগে স্বাভাবিক থেকে থাকে তাহলে শিশুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য তাকে আগের তুলনায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩০০ বা ৩৫০ ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসকদের মতে একজন নারীর গর্ভাবস্থার আগে যদি ওভার ওয়েট না হয়ে থাকে তাহলে গর্ভাবস্থায় তার ওজন ২৫ থেকে ৩০ পাউন্ড বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু এর বেশি নয়। কারণ শিশুর জন্মের পর মায়ের অতিরিক্ত ওজন কমাতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। যদি ওজন ৫০ পাউন্ডের এর বেশি বৃদ্ধি পায় তাহলে সেক্ষেত্রে শিশু জন্মের সময় কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে আর জন্মের সময় যেসব শিশু অতিরিক্ত ওজনের (Weight) হয়ে থাকে তাদের বড় হওয়ার পরে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যায়।

৩: হেয়ার ড্রাই ব্যাবহার করা যাবে কি প্রেগনেন্সির সময়?

ভুল ধারণা: হেয়ার ডাই (hair dye) ব্যবহার করালে শিশুর ক্ষতি হতে পারে।

সঠিক ধারণা: হেয়ার ডাই এর মধ্যে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় সেগুলোর সামান্য অংশ আমাদের ত্বক শোষণ করে নেয়, যা মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে কেমিক্যালের কড়া গন্ধে হয়তো একজন গর্ভবতী নারী অস্বস্তি বোধ করতে পারেন তাই এরকম সময়ে এমন জায়গায় হেয়ার ডাই এর জন্য যেতে হবে যেখানে ভেন্টিলেশন (ventilation) ব্যবস্থা ভালো আছে। তারপরেও যদি আপনার দুশ্চিন্তা থাকে এ ব্যাপারে তাহলে অ্যামোনিয়া আছে এমন ডাই এড়িয়ে চলতে পারেন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গর্ভধারণের পর আপনার চুলের হয়তো সহনশীলতায় পরিবর্তন আসতে পারে। গর্ভধারণের আগে যেই প্রোডাক্ট আপনার চুলে ভালো কাজ করত সেই একই প্রোডাক্ট গর্ভধারণের পর কাজ নাও করতে পারে তাই সে গুলো এড়িয়ে চলবেন।

৪: গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণ করা যাবে কি?

ভুল তথ্যঃ গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণ করা একদম বন্ধ করতে হবে, কারন এটি গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।

সঠিক তথ্যঃ গবেষোণায় দেখা গিয়েছে যে, একজন গর্ভবতী নারী যদি ২০০ মিলিগ্রামের কম কফি পান করেন সেক্ষেত্রে তার গর্ভপাত আর লো বার্থ ওয়েট (low birth weight) এর কোন ঝুঁকি থাকবে না।

৫: গর্ভাবস্থায় বডি স্ক্যানার ব্যাবহার করা যাবে কি?

ভুল ধারণা: বডি স্ক্যানার থেকে দূরে থাকুন। এতে গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর ক্ষতি হতে পারে।

সঠিক ধারণা: বিভিন্ন জায়গায় প্রবেশ করার আগে আজকাল বডি স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই কারণ এয়ারপোর্ট বডি স্ক্যানার (Airport body scanner), সিকিউরিটি এক্স-রে মেশিন এগুলোর সামান্য রেডিয়েশন (radiation) একজন গর্ভবতীর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তবে যেসব নারীর গর্ভধারণের পরবর্তী সময়ে ফুসফুস অথবা হৃদরোগের সমস্যা দেখা দেয় তারা সাধারণত ৩০,০০০ ফুট উপরে অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। তাই প্লেনে যাত্রা করার আগে তাদের চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬: গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়া যাবে কি?

ভুল ধারণা: গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়া যাবে না। এতে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে।

সঠিক ধারণা: সপ্তাহে ২ বার মাছ খেতে পারলে ভালো কারণ মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে যা গর্ভে থাকা শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট আর দৃষ্টি শক্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে অবশ্যই রান্না করা মাছ খেতে হবে।

আমাদের দেশে এখন কিছু জায়গায় সুসি (sushi) অথবা সাশিমি (sashimi) পাওয়া যায়, বিশেষ করে কোন ফুড ফেস্টিভাল হলে, কোরিয়ান খাবারের দোকানগুলোতে বা ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে। এগুলো এক ধরনের জাপানীজ খাবার যেটাতে মাছ কিছুটা কাঁচা অবস্থায় থাকে। কাঁচা মাছে ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাব না রয়েছে যা গর্ভবতী নারী ও তার গর্ভে থাকা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তবে রান্না করা সুসি খাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন দোকানে টুনা (tuna) মাছ পাওয়া যায় যা ক্যানের ভেতর প্রস্তুত করে রাখা থাকে। সেগুলো খেতে পারেন।

৭: গর্ভবতী নারী কয়টাস করতে পারবে কি?

ভুল ধারণা: গর্ভাবস্থায় নারী কয়টাস (coitus) করতে পারবে না।

সঠিক ধারণা: গর্ভবতী নারী কয়টাস করতে পারবে। কারণ এর ফলে গর্ভে থাকা শিশুর শারীরিক কোন ক্ষতি হবে না। শিশু অ্যামনিওটিক স্যাক এবং স্ট্রং ইউটেরাইন মাসল এর মাধ্যমে তার মায়ের গর্ভে সুরক্ষিত থাকে। তবে সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সন্তানের মা ও বাবা ২ জনকেই সাবধান থাকতে হবে। কারণ গর্ভবতী নারী যদি হার্পিস, জেনিটাল ওয়ার্ট, এইচআইভি (HIV)। দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে তার কাছ থেকে তার গর্ভে থাকা শিশুর মাঝেও রোগ ছড়াতে পারে। তবে এ ব্যাপারে বেশি দুশ্চিন্তা হলে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে যে coitus এ involve হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে কিনা।

৮: গর্ভাবস্থায় কোন দিকে ফিরে ঘুমানো উচিত?

ভুল ধারণা: এ অবস্থায় সব সময় বা দিকে কাঁত হয়ে শুতে হবে।

সঠিক ধারণা: যেদিকে বা যেভাবে শুয়ে আরাম বোধ হয় সেভাবে শুতে হবে।

গর্ভাবস্থায় সহবাস করা যাবে কী

আপনার গর্ভাবস্থা যদি স্বাভাবিক হয়ে থাকে, আপনার যদি কোন শারীরিক জটিলতার সমস্যা না থাকে এবং ডাক্তার যদি সহবাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ না দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য গর্ভাবস্থায় সহবাস করা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত। এতে গর্ভের সন্তানের কোন ধরনের আঘাত পাওয়ার অথবা ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চা পেটের কোন পাশে থাকে

গর্ভাবস্থায় আপনার বাচ্চা কোন পাশে থাকে সেটা বিস্তারিত ভাবে বলা যায় না। গর্ভের শিশুর জন্য সবচেয়ে সাধারণ এবং অনুকূল অবস্থান হল মাথার অবস্থান, যা সিফালিক উপস্থাপনা নামেও পরিচিত। এই অবস্থানে, শিশুর মাথা যোনির দিকে অবস্থান করে এবং শিশুর পিঠ সাধারণত মায়ের পেটের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। এই অবস্থাটি নরমাল ডেলিভারীর জন্য একটি সর্বোত্তম এবং সহজ বাচ্চা প্রসব করা যায়।

গর্ভাবস্থায় তলপেটে ব্যথা হয় কেন

গর্ভাবস্থায় ইউটেরাসের হাড়গুলো প্রসারণের কারণে মূলত তলপেটে ব্যথা হয়ে থাকে। ভ্রূণ যত বৃদ্ধি পাবে পেটে তত ইউটেরাসের আভ্যন্তরীণ পর্দায় চাপ সৃষ্টি হতে থাকে, যার ফলে তলপেটে ব্যাথা হয়ে থাকে। আপনার যদি এই ধরণের ব্যাথা হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ সমূহ

মায়ের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখলে বুঝা যায় ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে। আমরা এই মূহুর্তে জানবো ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষন সমূহঃ-

  • গর্ভাবস্থায় যদি নারী্দের চুলের সৌন্দর্যতা বা উজ্জ্বল্যতা বেড়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে এটি ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ।   

  • গর্ভাবস্থায় যদি একজন মায়ের চেহারার সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি     কমে যাবে, তাহলে বুঝে নিতে হবে এটি ছেলে সন্তান হওয়ার পূর্বলক্ষণ

  • গর্ভাবস্থায় যদি মায়েদের টক বা ঝাল জাতীয় খাবারের প্রতি বেশি আগ্রহ থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে  এটি ছেলে সন্তান হওয়ার পূর্বলক্ষণ 

  • পেটে ছেলে সন্তান থাকলে গর্ভাবস্থায় মায়ের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে এবং পেট অতিরিক্ত মাত্রায় ফোলা হয়ে থাকে।

  •  পায়ের পাতা ঠাণ্ডা হয়ে আসলে বুঝে নিতে হবে ছেলে সন্তান হবে। 

  • গর্ভাবস্তায়  যদি  বাচ্চার হার্ট রেট ১৪০ বিট/ প্রতি মিনিট রয়েছে, তাহলে ধরে নেওয়া হয় ছেলে সন্তান হবে।

এই গুলো ছাড়াও আপনি ডাক্তার এর সাহায্যে আল্ট্রা করে দেখে নিতে পারেন আপনার ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে। উপরে উল্ল্যেখিত লক্ষন গুলো শুধুমাত্র অনুমান এর ভিত্তিতে ধরে থাকে।

মেয়ে সন্তান হওয়ার লক্ষণ সমূহ

  • গর্ভাবস্থায় যদি নারী্দের চুলের সৌন্দর্যতা বা উজ্জ্বল্যতা হারিয়ে     যায় অথবা গর্ভবতী নারীদের চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে এটি কন্যা সন্তান হওয়ার লক্ষণ

  • গর্ভাবস্থায় যদি একজন মায়ের চেহারার সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি     পায়, তাহলে বুঝে নিতে হবে এটি কন্যা সন্তান হওয়ার পূর্বলক্ষণ

  • গর্ভাবস্থায় যদি মায়েদের মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি বেশি আগ্রহ থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে  এটি কন্যা সন্তান হওয়ার পূর্বলক্ষণ 

  • গর্ভাবস্থায় যদি কোন নারীর বেশি অলসতা ভাব আসে, তাহলে বুঝে নিতে হবে টি কন্যা সন্তান হওয়ার পূর্বলক্ষণ

এই গুলো ছাড়াও আপনি ডাক্তার এর সাহায্যে আল্ট্রা করে দেখে নিতে পারেন আপনার ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে। উপরে উল্ল্যেখিত লক্ষন গুলো শুধুমাত্র অনুমান এর ভিত্তিতে ধরে থাকে

আমাদের শেষ কথা

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদের মাঝে তুলে ধরেছি গর্ভাবস্থায় কয়েকটি ভুল ধারণা সম্পর্কে। আরো শেয়ার করেছি গর্ভাবস্থায় সহবাস করা যাবে কী, গর্ভাবস্থায় বাচ্চা পেটের কোন পাশে থাকে, গর্ভাবস্থায় তলপেটে ব্যথা হয় কেন , ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ সমূহ, মেয়ে সন্তান হওয়ার লক্ষণ সমূহ এই বিষয় গুলো নিয়ে। আপনাদের যদি কোন মতামত থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন।

শিশুর বুকে কফ জমলে কি করা উচিত

ইউরোপের নন সেনজেন ভুক্ত দেশের তালিকা

শিশুদের জন্মের পর থেকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। তার মধ্যে সব থেকে বেশি যে অসুবিধা হয়ে থাকে সেটি হচ্ছে শিশুদের বুকে কফ জমা। আমরা চিন্তায় পরে যায় কিভাবে শিশুদের কফ জনিত সমস্যা থেকে সুস্থ করা যায়। শিশুদের বুকে কফ জমলে আমাদের কি করা উচিৎ বা শিশুদের বুকে কফ জমলে মায়েদের করনীয় সম্পর্কে আমাদের আজকের এই পোস্ট। আপনার আদরের শিশুর যদি বুকে কফ জনিত সমস্যা হয়ে থাকে, শিশুদের বুকে কফ জমার কারণ, শিশুদের বুকে কফ জমার লক্ষ্মণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আজকের এই পোস্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে পারেন।